ইরানের
শাসনব্যবস্থা উৎখাতে ইসরায়েল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: নেতানিয়াহু
ইরানের
বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে ইসরায়েল সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেহরানের বর্তমান ক্ষমতার পতন ঘটানো সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকেও চূড়ান্তভাবে নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর
বরাতে বিষয়টি জানা গেছে।
সম্প্রতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে
মিলিত হন নেতানিয়াহু। প্রাথমিক
অবস্থায় বৈঠকটির বিষয়টি গোপন রাখা হলেও পরবর্তীতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ নিজেই এর সত্যতা স্বীকার
করেন। সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সেখানে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করার ফাঁকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত আলোচনার সুযোগ হয়। ইসরায়েলকে ভালো অংশীদার আখ্যা দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও, আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও এই আলোচনার রূপরেখা
প্রকাশ করা হয়নি।
লেবানন
সীমান্তের নিকটবর্তী কিরিয়াত শমোনায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত তেল হাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবর্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু তাঁর এই কঠোর অবস্থানের
কথা জানান। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে সীমান্ত এলাকা থেকে পিছু হটানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। তবে তাঁদের চূড়ান্ত সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি এবং সেই কাজ শেষ করতে তিনি নিজে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
ইসরায়েলি
প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার আসল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা, যা মূলত একটি
বিষাক্ত অক্টোপাসের মাথার মতো। সেই মাথাটি কেটে ফেলা সম্ভব হলেই পুরো দেহের পতন ঘটবে এবং তখন লেবাননসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার ইতিবাচক কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নেতানিয়াহুর
মতে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ক্ষমতায় টিকে থাকলে তারা সামরিক ও মানসিকভাবে সাময়িক
ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে আবারও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং নিজেদের অনুগত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাবে। উগ্র আদর্শের কারণে ইরান অতীতের মতো আবারও ইসরায়েলের ওপর আঘাত হানার পাঁয়তারা করতে পারে। আর তা চিরতরে
ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো তেহরানের ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো, যা একই সঙ্গে
হিজবুল্লাহ ধ্বংসের পথ সুগম করবে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল