হরমুজ
প্রণালিতে ইরান ‘নাৎসি কৌশল’ ব্যবহার করছে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কৌশলগতভাবে
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ‘নাৎসি কৌশল’ প্রয়োগ করছে বলে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব ইতিহাসে এমন আক্রমণাত্মক ও ধ্বংসাত্মক তৎপরতা
আর দেখা যায়নি উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ নিয়ে সরব
হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর
প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-কে দেওয়া এক
বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে ইরান বাস্তবে কী ঘটাচ্ছে এবং
তারা কতটা বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে—সে বিষয়ে গোটা
বিশ্বের নজর আরও বাড়ানো জরুরি।
মার্কো
রুবিও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব আজ এমন একটি
দেশের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যারা প্রকাশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে, চলমান যুদ্ধের সঙ্গে দূরতম সম্পর্ক নেই এমন সাধারণ নাবিকদের হত্যা করার অপচেষ্টা করছে এবং মালামালবাহী জাহাজগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজগুলো যেভাবে
বাণিজ্যিক নৌযান ধ্বংসের কৌশল নিয়েছিল, তেহরান ঠিক সেই পথেই হাঁটছে। এই ধরনের জঘন্য
কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুরো বিশ্বকে একযোগে নিন্দা জানানো উচিত।
তবে
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ওই অঞ্চলের জলসীমায়
মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে এবং ইরানের চালানো অধিকাংশ হামলা ও ধ্বংসাত্মক প্রচেষ্টাই
সফলতার সঙ্গে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে,
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ জানিয়েছে, আঞ্চলিক চলমান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য মধ্যস্থতা নিয়ে তেহরানে সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাক সেনাপ্রধান পরবর্তীতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো বিবরণ অনুযায়ী গালিবাফ স্পষ্ট করেছেন, গত মাসে হরমুজ
প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরান যে সাতটি শর্ত
বেঁধে দিয়েছে, ওয়াশিংটন সেগুলো পুরোপুরি পূরণ না করা পর্যন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কোনো আস্থা ফিরবে না।
উল্লেখ্য,
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ
হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু থেকেই অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। অবরুদ্ধ প্রণালি খুলে দিতে ইরানের দেওয়া প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রণালি বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিভিন্ন বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেল রপ্তানির ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে
সামরিক সংঘাত বন্ধ করা। এই সংঘাত বন্ধের
দাবির মধ্যে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত
সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার তীব্র লড়াইও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল