বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখানোর যে দাবি করেছে, তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন। জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত মানুষকে মূলত ধোঁকাবাজির জান্নাত দেখাচ্ছে, যা হাদিসে বর্ণিত দাজ্জালের জান্নাতের সমতুল্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছিলেন যে তাঁদের দল সাধারণ মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখায়। ওই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন হাদিসের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি লেখেন, ইসলামি রেওয়ায়াত অনুযায়ী কেয়ামতের আগে দাজ্জালও মানুষকে জান্নাত দেখিয়ে নিজের অন্ধ অনুসরণ করতে বলবে। ফলে জামায়াত আসলে কোন জান্নাতের পথ দেখাচ্ছে, তা নিয়ে দেশের মানুষের কাছে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
নিজের পোস্টে জামায়াতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈপরীত্য ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সহকারী। তিনি প্রশ্ন করেন, নির্বাচনের আগে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে কি তারা শরিয়া আইন না কায়েমের সাফাই গায়? নাকি তাদের রাজনীতি শহীদ আবরার ফাহাদের বুয়েট হন্তারকদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পথ? এছাড়া রোজা ও পূজাকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ আখ্যা দিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানা কিংবা নির্বাচনী সুবিধা পেতে হিন্দুদের দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার বয়ান তৈরি করার নীতিকেও কঠোর ভাষায় ধিক্কার জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জামায়াতের ভূমিকা নিয়েও বিষোদ্গার করেন রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মাত্র এক মাসের মাথায় ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বিচার না চেয়ে দলটিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার কথা বলে জামায়াত বস্তুত ছাত্র-জনতার মহান জুলাই বিপ্লব ও রক্তের সঙ্গে সরাসরি গাদ্দারি করেছে। ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চরম মিথ্যাচার, ভণ্ডামি ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে জামায়াত মানুষকে যে জান্নাতের মিথ্যা পথ দেখাচ্ছে, সেটি মূলত হাদিসে উল্লিখিত দাজ্জালের ভ্রান্ত জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।