গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিপুলসংখ্যক লোক সমাগমে মব সৃষ্টি করে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, মারধর এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। টঙ্গীর ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন এবং তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে এই তাণ্ডব চালানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় চরম আতঙ্কে পড়ে ভুক্তভোগী হামিদা বেগম বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিএনপি নেতা জাকির হোসেনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একদল সশস্ত্র লোক হামিদা বেগমের বাড়িতে হঠাৎ চড়াও হয়। হামলাকারীরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বসতঘরে ঢুকে তান্ডব ও ব্যাপক ভাঙচুর চালাতে থাকে। এ সময় বাড়ির লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গেলে হামলাকারীদের দেশীয় অস্ত্রের নৃশংস আঘাতে আরিফ মাতবরসহ দুইজন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী হামিদা বেগম ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে জানান, হামলার সময় পরিবারের সদস্যদের অস্ত্র উঁচিয়ে জীবননাশের সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে গৃহকর্তা ও স্বজনেরা পিছু হটলে হামলাকারীরা ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র গুঁড়িয়ে দেয়। একই সাথে আলমারি ভেঙে নগদ ৭০ হাজার টাকা, বহুমূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং ৪টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জমি বিক্রির সার্বিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঘটনার মাত্র পাঁচ দিন আগে আরিফ মাতবর ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। পূর্ব শত্রুতা ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা জাকির ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
হামলা পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় দিন কাটানো এই পরিবারটি ঘটনার সাথে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও নিজেদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. জাকির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।