সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 68
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকের বাদ্য, আবিরের রং, সিঁদুর খেলা আর ভক্তদের প্রার্থনায় আবেগঘন পরিবেশে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন ভক্তরা। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল বিদায়ের সুর, আগামী দিনের মঙ্গল ও কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটকে এবং কৈলাসে প্রত্যাবর্তন নৌকায়। দেবীর বিদায়ের মধ্য দিয়ে এ বছরের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে ষষ্ঠী থেকে শুরু হয় মূল পূজার উৎসব। কয়েক দিন ধরে পূজা, অঞ্জলি, ভক্তদের অংশগ্রহণ এবং নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুখর ছিল পূজামণ্ডপগুলো। বিজয়া দশমীতে সেই আয়োজন শেষ হয় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।
বুধবার সকালে মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গার দশমী বিহিত পূজা শুরু হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দর্পণ বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। এরপর ভক্তরা অঞ্জলি প্রদান করেন এবং সিঁদুর দানের আয়োজন করা হয়। বিবাহিত নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়।
দুপুর পর্যন্ত বিজয়া দশমীর গান, নাচ ও নানা আয়োজনে মুখর ছিল মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। পরে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। প্রিয় দেবীকে বিদায় জানাতে ভক্তরা একত্র হন। বিসর্জনের সময় অনেকের চোখেমুখে ছিল আনন্দের স্মৃতি আর আগামী বছর আবারও দেবীকে বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা।
তাড়াশ উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সান্যাল জানান, এ বছর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৫০টি পূজামণ্ডপে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বুধবার ছিল উৎসবের শেষ দিন।
তিনি বলেন, “আজকের দিনে মায়ের (দেবী দুর্গা) কাছে আমাদের প্রার্থনা একটাই, আমরা মায়ের সন্তান। আজ সারা পৃথিবীর বর্তমান পরিস্থিতি অনেক সংকটপূর্ণ। এ রকম পরিস্থিতিতে মা যেন আমাদের সবাইকে ভালো রাখেন।”
আশুতোষ সান্যাল আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা ও সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে সবাই যেন উত্তরণ ঘটাতে পারেন, সেই প্রার্থনাই তাঁরা করেছেন। আগামী দিনগুলোতে সবাই যেন সুস্থ থাকেন, ভালো থাকেন এবং পৃথিবীতে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, দেবীর কাছে তাঁদের প্রত্যাশা সেটিই।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাড়াশে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। বিদায়ের ক্ষণে ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেছেন এবং আগামী বছর আবারও উৎসবের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।