যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার একটি স্থায়ী ও টেকসই কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে আবারও তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। চলতি বছরের গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এটি তাঁর পঞ্চম সরকারি তেহরান সফর। আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ও দুই পরাশক্তির মধ্যে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
পাক সেনাপ্রধানের এই ঝটিকা সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মাত্র একদিন আগেই তেহরান সফর শেষ করে নিজ দেশে ফিরে গেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ইরান অবস্থানকালে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। মস্কো রওনা হওয়ার আগে যেকোনো সংকটে সবসময় ইরানের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে যান লাভরভ।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক প্রেক্ষাপট আরও জটিল করে তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি অত্যন্ত গোপন ও নজিরবিহীন বৈঠক শেষ করেছেন তিনি। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা প্রকাশ না পেলেও তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মনে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ভূখণ্ডে বিশাল ও ভয়াবহ সামরিক হামলা শুরু করেছিল। ওই আগ্রাসনের পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি অর্জিত হলেও স্থায়ী শান্তির পথ এখনো তৈরি হয়নি।