দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় মেগা প্রকল্প পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান সাফল্যের সঙ্গে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাশিয়া থেকে আনা এই তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ গাড়িটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে
বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান। পারমাণবিক জ্বালানিবাহী বিশেষ গাড়ি বহরটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ এবং উচ্চপদস্থ বাংলাদেশি ও রুশ কর্মকর্তারা সেটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কড়া নির্দেশিকা ও কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে সড়কপথে অতি সাবধানতার সঙ্গে এই তেজস্ক্রিয় জ্বালানি কেন্দ্রস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে গত ২ অক্টোবর শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে একটি বিশেষ সামরিক কার্গো উড়োজাহাজে করে প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সড়কপথে চালানটি ঈশ্বরদীর প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’-এর পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় সমস্ত পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ৯টি বিশেষ ফ্লাইটে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি দেশে আনবে রোসাটম।
ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি স্বতন্ত্র ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিটই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হলে এই সর্বাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।