মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা সামরিক সংঘাত এবং বিশ্ববাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খনিজ তেলের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। টানা সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের শঙ্কায় বৈশ্বিক বাজারজুড়ে নতুন করে চরম অস্থিরতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ লেনদেনে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০.৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.১৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
বাজার গবেষণা সংস্থা ডিবিএস-এর জ্বালানি গবেষণা প্রধান সুভ্র সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানান, কাতার কিংবা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশা অনিশ্চিত হয়ে পড়া এবং আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) দেওয়া হালনাগাদ তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের মজুত হ্রাস পাওয়ার খবর আসার পরপরই বাজারে এই তীব্র দরবৃদ্ধি ঘটে।
এদিকে তেহরানে সফররত পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের দেওয়া পূর্বশর্তগুলো পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় বসবে না তেহরান। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ওই অঞ্চলে অন্তত ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী ছাড়িয়ে ওমান উপসাগরে থাকা আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
অন্যদিতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ স্থাপনায় জোরালো হামলা চালিয়েছে। তারা সৌদি আরামকোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু কেন্দ্র, শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে আক্রমণ পরিচালনা করে। একই সঙ্গে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর ওপর হুথিদের নতুন করে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক এই উত্তাল পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগ বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক রিফাইনারিগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে।
(সূত্র: রয়টার্স)