ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে দেশের ব্যাংকব্যবস্থাকে ধ্বংস ও দুর্বল করে রেখে গেছে এবং এই খাত থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া চরম ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে দেশে দারিদ্র্যের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে জেলায় কর্মরত স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। অর্থনৈতিক সংস্কার ও দেশের সার্বিক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বিগত প্রশাসনের নানা অনিয়ম ও ভুল নীতির কড়া সমালোচনা করেন।
সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা বিভিন্ন নেতিবাচক প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর স্পষ্ট করে বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে প্রবৃদ্ধির ধারা নিম্নমুখী হবে বলে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই দেশের স্বার্থে সুনির্দিষ্ট সংস্কার কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাত এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কী ধরনের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি, তা ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, এই প্রথম বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে সংস্কার কর্মসূচির প্রধান অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করেছে। এতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাও পূর্ণ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাছাড়া বেসরকারি খাতের স্থবিরতা কাটাতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় সচল করা এবং দেশের হতদরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের ভুল ও অপরিকল্পিত জ্বালানি নীতির কারণেই আজকের এই নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অথচ দেশে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার ঘটানোর পর্যাপ্ত সুযোগ থাকলেও পূর্বের প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে সেই খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে গেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেখাসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উক্ত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।