মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আভাস দিল ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে লাগাতার ধেয়ে আসা তীব্র হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ প্রতিনিধি এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
শুক্রবার প্রখ্যাত পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নওফালের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি টম ব্যারাক এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন। পডকাস্টের একপর্যায়ে চলতি সপ্তাহান্তে ইরানে মার্কিন হামলা হতে পারে কি না—এমন এক সরাসরি প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "চলতি সপ্তাহান্তে কি হামলা হতে পারে? অবশ্যই পারে।" যদিও ইরান সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার সরাসরি কোনো নীতিগত ভূমিকা নেই, তবুও তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাক্ষাৎকারটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরবর্তীতে ইসরায়েলি আর্মি রেডিওতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদুত টম ব্যারাক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দূরদর্শী। তিনি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে সবসময়ই আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এজন্য সবসময় প্রস্তুত রয়েছে এবং আলোচনার জন্য তারা সহজলভ্য ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই মাসের পর মাস ধরে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, চরম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি থাকা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি বেশ কিছু আগ্রাসী মন্তব্য করেছেন। যার সামনে আগামী মঙ্গলবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন রয়েছে, তিনি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত বা উৎখাত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর থেকে ইসরায়েল ইরানের ভূখণ্ডে একাধিকবার দুটি বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা অভিযান চালানোর পর থেকেই তিনি এমন কঠোর অবস্থান ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আসছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর কোনো কার্যকর পথ না পাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানে পুনরায় নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে পরোক্ষ আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এর আগে তিনি বিভিন্ন প্রসঙ্গে একাধিকবার জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে এই ধরনের কোনো সামরিক হামলা চালানো হবে না। কিন্তু সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বদলে যাওয়া সমীকরণ ও সামরিক প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।