বিশ্ব রাজনীতির নানাবিধ জটিল সমীকরণ, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে উভয় নেতা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার আদ্যোপান্ত নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়ার তীব্র আক্রমণের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের আত্মরক্ষা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি 'স্টারলিংক'-এর অবাধ ও পূর্ণ প্রবেশাধিকার বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। এর পাশাপাশি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গৃহীত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। প্রায় ছয় বছরে পদার্পণ করা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একযোগে কাজ করার ব্যাপারে উভয় নেতা পুরোপুরি একমত পোষণ করেছেন।
চলমান জ্বালানি সংকট ও দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা প্রসঙ্গে দুই নেতা যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন এবং উত্তর সাগরের বিতর্কিত 'জ্যাকড সিস' গ্যাস ক্ষেত্র অনুমোদন সংক্রান্ত যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সচিব মিয়াতা ফাহনবুলার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের মধ্যে ইতিবাচক কথাবার্তা হয়। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে পুনরায় অনুমোদন পাওয়া এই গ্যাস ক্ষেত্রটি চলতি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি চাঙ্গা করার পাশাপাশি দেশটির নাগরিকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে নেতারা দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
ফোনালাপে আরও উঠে আসে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত গভীর সমুদ্রের তেল উত্তোলনের মেগা উদ্যোগ 'সী লায়ন' প্রকল্প। আর্জেন্টিনার চরম বিরোধিতার মুখে এই প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে বার্নহাম বলেন, আর্জেন্টিনার দমনমূলক পদক্ষেপ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্বীপবাসীর নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ স্বাধীনভাবে ব্যবহারের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি ট্রাম্পের কাছে পুনর্ব্যক্ত করেন।
সংবাদের শেষাংশে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন। সৌদি আরব এবং হুথি গ্রুপের মধ্যকার সম্প্রতি পুনরুজ্জীবিত হওয়া তীব্র সংঘাতের মধ্যে রিয়াদের প্রতি যুক্তরাজ্যের স্পষ্ট সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। ২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন।