পারমাণবিক শক্তিধর দুই চিরপ্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্ভাব্য ভয়াবহ সামরিক সংঘাত একাই থামিয়ে দেওয়ার একক কৃতিত্ব ফের নিজের ঝুলিতে টেনেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচারণায় প্রদত্ত ভাষণকালে তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে দাবি করেন যে, উভয় দেশের ওপর ২৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের চূড়ান্ত হুমকি দিয়েই তিনি মূলত এই রক্তক্ষয়ী সামরিক লড়াই বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের কূটনৈতিক সাফল্য ও নেতৃত্বের দক্ষতা তুলে ধরে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "দুটি মারাত্মক পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ আমিই থামিয়েছি। সেসময় আমি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলাম—বন্ধুরা, তোমরা যদি এই বিধ্বংসী যুদ্ধ চালিয়ে যাও, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবে না। আমি তোমাদের উভয়ের ওপর ২৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক বসিয়ে দেব, যাতে তোমরা আর কোনো ব্যবসা করার সুযোগ না পাও।"
বাণিজ্যিক দিক থেকে এই কঠোর হুমকির প্রভাব পড়াতেই দুই দেশ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, "আমার এমন হুমকিতে তারা প্রচণ্ড বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের গোলাগুলি পুরোপুরি বন্ধ হলো এবং বিধ্বংসী যুদ্ধটি থেমে গেল। সেই ভয়াবহ লড়াইয়ে প্রায় ১১টি সামরিক বিমান ভূপাতিত হয়েছিল। আমি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এসব যুদ্ধ বন্ধ করেছি এবং বিশ্বশান্তির জন্য এটি করা সত্যিই আমার জন্য এক পরম সম্মানের বিষয় ছিল।"
বিশ্বমঞ্চে এত বড় ও জটিল মধ্যস্থতা সম্পন্ন করার পরেও কোনো আন্তর্জাতিক সম্মাননা বা স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়ে গভীর আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আটটি ভিন্ন ভিন্ন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামিয়েছি। কিন্তু এতকিছুর পরেও আমি কি কোনো নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছি? না, আমি তা পাইনি।"
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবিটি বরাবরের মতোই জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে ভারত সরকার। সংঘাতের সময় ১১টি সামরিক বিমান ভূপাতিত হওয়ার তথ্যকে সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতার সুযোগ শুরু থেকেই একবাক্যে নাকচ করে এসেছে দিল্লি।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের পরিচালিত 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় কোনো মার্কিন হুমকি বা চাপের মুখে পড়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি। বরং সংঘাতময় পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্সের (ডিজিএমও) সরাসরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সেই সময়ে সীমান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল।