চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী ও মারাত্মক প্রলয়ঙ্করী সুপার টাইফুন ‘চাম্পি’র সরাসরি আঘাতে দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ইতিমধ্যেই অন্তত একজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। শনিবার দিনভর পুরো তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ের ভয়াবহ প্রভাবে প্রবল বাতাসের পাশাপাশি মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দেশটির সার্বিক বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং সড়ক ও আকাশপথের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, টাইফুন চাম্পির প্রভাবে সমুদ্র চরম উত্তাল হয়ে ওঠে এবং উপকূলীয় এলাকায় বিশালাকার ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এ সময় ঝড়ের তীব্রতায় সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এর পাশাপাশি প্রবল ঝোড়ো বাতাসের চোট ও তাণ্ডবে দেশটির বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় গাছপালা উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের একপর্যায়ে দ্বীপটির ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠান একযোগে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্ত পোহাতে হয়। পরবর্তীতে অবশ্য বিদ্যুৎ বিভাগের তৎপরতায় অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
টাইফুনের কারণে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সড়ক এবং আকাশপথের নিয়মিত বিমান যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তাইওয়ানের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শনিবার এক দিনেই ২৪২টি নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর আগের দিন শুক্রবারও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় দেশের প্রায় এক হাজার ফ্লাইটের সূচি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছিল।
দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজধানী তাইপেতে চরম প্রবল বাতাসের সাথে অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে রাজধানী তাইপেসহ উত্তর ও মধ্য তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সমস্ত স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিশ্চিত করে জানিয়েছে, চলতি বছরের অন্যতম প্রবল শক্তিশালী এই সুপার টাইফুনটি দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলভাগ সফলভাবে অতিক্রম করার পর বর্তমানে কিছুটা শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আঘাতকারী এই ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের গতিবেগ পরিমাপ করা হয়েছে ঘণ্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার। তাইওয়ানের ভূখণ্ড অতিক্রম করার পর চাম্পি এখন নতুন করে উত্তর দিকে মোড় নিয়েছে এবং বিপজ্জনক গতিতে প্রতিবেশী চীনের উপকূলীয় এলাকার দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।