মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনীতিতে চরম নতুন উত্তেজনার পারদ চড়েছে। অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ইরানের একটি বড় ষড়যন্ত্র ‘উন্নত পর্যায়ে’ পৌঁছানোর চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এনেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এক স্পর্শকাতর গোয়েন্দা প্রতিবেদন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বিশ্বস্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই আগাম সতর্কতামূলক বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএনআই-এর কাছে সংগৃহীত তথ্য মতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা শুধু সীমান্ত সংলগ্ন সৌদি আরবেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতেও তাদের আকস্মিক সশস্ত্র হামলা ব্যাপক আকারে বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ওই মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিরাজমান এই আকাশচুম্বী নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যেই সৌদি আরবে অবস্থানরত তাদের অ-জরুরি কাজের মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের নিকট পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে নিরাপদে দেশ ছাড়ার কঠোর নির্দেশ জারি করেছে। তবে একাধিক উপসাগরীয় দেশের আঞ্চলিক মার্কিন দূতাবাস থেকে সকল কর্মীদের সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য ও গুঞ্জন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে সরাসরি খণ্ডন করেছেন পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র টমি পিগট।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক বার্তায় ওই মুখপাত্র স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন যে, কর্মীদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার সংক্রান্ত আদেশটি মূলত এবং শুধুমাত্র সৌদি আরবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেখানে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বাহিনীর একের পর এক ক্রমবর্ধমান ও বিপজ্জনক হামলার কারণেই মূলত নিজস্ব কর্মী সুরক্ষায় এই জরুরি ও কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে আমেরিকার ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনী বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানের সাথে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমঝোতা কোনোভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলে ইরানকে চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও তাদের ভূখণ্ডে বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপ বা অভিযান চালাতে দ্বিধাবোধ করবে না। সে সময় ইরানের কৌশলগত দূরদর্শিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরে তিনি তেহরান প্রশাসনকে নতুন করে ক্ষতিকর সামরিক সংঘাত এড়িয়ে শান্তিশৃঙ্খলার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জোর আহ্বান জানান।
আসন্ন নভেম্বরের প্রথমার্ধে বহুল আলোচিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কঠোর ও আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুরো মধ্যপ্রাচ্য কিংবা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে নতুন করে এক ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ক্রমশ মারাত্মক তীব্র হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ের প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।