ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় দেশ ইতালির বিখ্যাত সিসিলি দ্বীপাঞ্চলে পরপর অন্তত ১২টি মাঝারি ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। এই ভূকম্পনের পরপরই পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরের দিকে সিসিলির বিভিন্ন এলাকা ও শহরের ভূখণ্ডে এসব ভূকম্পন একযোগে তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় পুরো এলাকা জুড়ে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুততার সাথে পালের্মো ও মেসিনা শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আরও জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকার সর্বস্তরের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা এবং ঘরের বাইরে চলাচলে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বনের আনুষ্ঠানিক পরামর্শ দিয়ে জরুরি 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' এবং একই সঙ্গে বিপজ্জনক সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। এ সময় আতঙ্কিত স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বহুতল ভবন ছেড়ে দ্রুত খোলা ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
ভূমিকম্পের পর পশ্চিম উপকূলবর্তী ত্রাপানি শহরের প্রধান একটি আদালত ভবন নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে খালি করে ফেলা হয়। একইভাবে সিসিলি এবং ইতালির মূল ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী লিপারি দ্বীপটিতেও শিক্ষার্থী ও পৌরসভার কর্মীদের ভবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। হঠাৎ করে এমন উপরিউক্ত একের পর এক কম্পনের ফলে নাগরিক জীবনের সাধারণ স্বাভাবিক কাজকর্ম সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক ভূ-উপগ্রহ সংস্থাগুলোর প্রাপ্ত তথ্যমতে, এসব অধিকাংশ ভূমিকম্পের মূল উৎপত্তিস্থল ছিল সিসিলির ঐতিহাসিক রাজধানী পালের্মো এবং দ্বীপটির উত্তর উপকূলীয় জনপদ থেকে মাত্র ৬০ মাইলেরও কম ভৌগোলিক দূরত্বে। সিসিলির রাজধানী পালের্মো ছাড়াও পাত্তি, লিকাটা, কাপো দ’ওরলান্দো এবং কাম্পোফেলিচে দি রোচেল্লা এলাকার বাসিন্দারাও সশরীরে এই ভয়াবহ ভূকম্পন অনুভব করার কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে সিসিলির উত্তরাঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী একটি মূল ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রাকৃতিক এই দুর্ঘটনায় কোনো মানুষের হতাহত হওয়া কিংবা ঘরবাড়ির বড় ধরনের বৈষয়িক ক্ষয়ক্ষতির কোনো সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়ে পালের্মোর বর্তমান মেয়র রবার্তো লাগাল্লা মিডিয়াকে জানিয়েছেন, ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি ও সমুদ্রের গতিপ্রকৃতি নিয়মিত এবং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইতালির সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ কর্তৃপক্ষ। এক জরুরি প্রশাসনিক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাগরিকের আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া বা সম্পদের ক্ষতি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবুও প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের জীবন রক্ষা ও শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় আইনি ও উদ্ধারমূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।