যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় আরও ২ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গভীর রাতে যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয় এবং গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত দুই তরুণের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা হলেন—যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী গ্রামের শামিম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন এবং শহরের শংকরপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জয়। তবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অপর এক ব্যক্তির নাম-ঠিকানা ও পরিচয় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি; তার পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অন্যদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শংকরপুর এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক এবং রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব হাসান রিফাত। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন দুই তরুণের শারীরিক অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে সিয়াম হোসেন, ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাত—এই তিনজন একই মোটরসাইকেলে চড়ে মণ্ডলগাতী এলাকা থেকে বেনাপোলের দিকে দ্রুতগতিতে যাচ্ছিলেন। তাদের মোটরসাইকেলটি যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক অর্থাৎ বেনাপোল এলাকা থেকে যশোরের দিকে আসা দ্রুতগামী অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সজোড়ে সংঘর্ষ হয়। বিকট শব্দের এই সংঘর্ষে দুটি মোটরসাইকেলই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং আরোহীরা মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন।
বিকট সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই ৩ জন আরোহী করুণভাবে প্রাণ হারান। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহত সিয়াম হোসেন ছিলেন বেনাপোলগামী মোটরসাইকেলটির আরোহী। আর নিহত আরিফুল ইসলাম জয় ও অপর অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিতে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাতকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
ভয়াবহ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিহত আরিফুল ইসলাম জয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে এবং তার শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত মৃতদেহের পরিচয় শনাক্তের জন্য এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্তকারী টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছে।