ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

চরম ভোগান্তিতে চরাঞ্চলবাসী

পাবনায় ২০ বছর ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পুলিশ ফাঁড়ি


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৪:৩০ পিএম

কাজী বাবলা, পাবনা:

পাবনায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চলায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এলাকাবাসি চরম দুর্ভেগে পড়েছেন। 

জানা গেছে, পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার যোগাযোগবিচ্ছিন্ন, দুর্গম চরাঞ্চল ঢালারচর ইউনিয়ন। দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৩ সালে ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র। নিজ ইউনিয়নেই চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশা পূরণ হয়নি এলাকাবাসীর। পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা ঢালারচরে চরমপন্থিদলের সদস্যদের মোকাবেলায় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে সাময়িকভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে স্থাপন করা হয় পুলিশ ফাঁড়ি। সেই থেকে বন্ধ রয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সেবা কার্যক্রম। 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন স্থানীয় একটি বাড়িতে বসেন স্বাস্থ্যকর্মী। কিন্তু জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না ইউনিয়নবাসীর। আশপাশে নেই কোনো স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র। ফলে অসুস্থ রোগীকে নিয়ে ছুটতে হয় বেড়া উপজেলা বা পাবনা সদরে। অথবা যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয় মানিকগঞ্জ কিংবা রাজবাড়ীর বিভিন্ন হাসপাতালে। দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য চিকিৎসা নিতে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া অনেক ভোগান্তির।


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে ঢালার চর ইউনিয়নের চিত্র। রেললাইনসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও এসেছে পরিবর্তন। কিন্তু উন্নয়ন হয়নি স্বাস্থ্যসেবার। ইউনিয়নবাসী চান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেবার পাশাপাশি নিশ্চিত হোক স্বাস্থ্যসেবা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনটি দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে পুলিশ ফাঁড়িটি অন্য কোনো সরকারি ভবনে স্থানান্তরের দাবি স্থানীয়দের।


ঢালার চর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, পরিবারের একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদর অথবা বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। বিভিন্ন সময় আমার পরিবার বা আত্মীয়-স্বজন আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু করার দাবি করেন তিনি।


ঢালারচরের বাসিন্দা কুলসুম বেগম জানান, গর্ভবতী নারীদের গুরুত্বপূর্ণ হলে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র। জরুরি প্রয়োজনে এই কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সেবা নেওয়া যায়। গর্ভবতী নারীদের জরুরি সেবার প্রয়োজন হয়ে থাকে। অনেক সময় বড় কোনো হাসপাতালে নিতে গেলে দীর্ঘ সময় পথ পাড়ি দিতে হয় এতে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। অতিদ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালুর দাবি করেন। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক থাকুক সেটাও প্রত্যাশা এলাকাবাসির।


পাবনার বেড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার শাহজাহান সিরাজ বলেন, পুলিশ বিভাগকে বার বার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পুলিশ ফাঁড়ি সরানো যায়নি। পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে চাইলে বিকল্প ভবনে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চালানো হবে। 


এ সম্পর্কিত আরো খবর