মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবের আকাশসীমায় ফের বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি সামরিক বাহিনী আকাশেই সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে রুখে দেওয়ার দাবি করেছে। সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর (সিভিল ডিফেন্স) জানিয়েছে, গত শনিবারের এই হামলায় ইসলামের পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনাসহ পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়েছে। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝ আকাশেই এগুলো ধ্বংস করায় কোনো হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার এই তীব্র অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হুতি মিলিশিয়ারা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা ও প্রতিহতের ঘটনা ঘটে। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের ছোড়া দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মক্কার বাইরের ওয়াদি মুগামাস, জেদ্দার আল-নুজহা এলাকা, তায়েফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিঘের একটি জনবসতিহীন স্থানে গিয়ে পড়ে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র এই স্থানগুলোর কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত বৈধ সরকার জানিয়েছে, হুতিরা একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী এডেনে উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি প্রধান স্থাপনা লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
তবে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করার এই গুরুতর অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তিনি সৌদির এই দাবিকে ‘ভয়াবহ মিথ্যাচার’ ও প্রোপাগান্ডা বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে একই সাথে হুতিরা দাবি করেছে, তারা শুক্রবার ও শনিবার জুড়ে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে একযোগে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মাম ও নাজরান অঞ্চলের বিমানবন্দরসমূহ এবং খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি। এছাড়াও দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলে তেল পরিবহনের মূল পাইপলাইন এবং অপরিশোধিত তেল পাম্প করার দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে এই নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন কার্যত পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ওই চুক্তির পর থেকে সীমান্তের দুই পাশে বড় ধরনের হামলা অনেকটাই বন্ধ ছিল। উল্লেখ্য, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছে, অন্যদিকে রাজধানী সানাসহ দেশটির একটি বড় অংশ এখনো হুতি মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পবিত্র নগরীগুলোর সন্নিকটে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার হুমকিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।