কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
পরিবহন মালিকদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে সব ধরনের বেসরকারি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে এই রুটে বাস চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ ও বিপাকে পড়েছেন ঢাকাগামী সাধারণ যাত্রীরা। জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালে বা কাউন্টারে এসে গাড়ি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার সকাল থেকেই এই রুটের বেসরকারি পরিবহনগুলোর বাস চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
সমিতির সদস্যসচিব শহীদুল ইসলাম শহীদ জানান, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের জন্য পুরোনো বাসগুলো পরিবর্তন করে নতুন বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়ে পারস্পরিক সম্মতিও পাওয়া গিয়েছিল। কিশোরগঞ্জের মালিকরা সেই অনুযায়ী পুরোনো বাস সরিয়ে নতুন বাস চালু করলেও ঢাকার মালিকরা তাঁদের পুরোনো বাসগুলো পরিবর্তন করেননি। উল্টো এই রুটে নতুন করে আরও দুটি বাস যুক্ত করেন।
এ নিয়ে গত কিছুদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও গত শনিবার ঢাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে কিশোরগঞ্জের মালিকদের তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হলে তার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
মালিক সমিতির এই সিদ্ধান্তের ফলে এই রুটের বিভিন্ন পরিবহনের মোট ২৩৭টি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
অনন্যা পরিবহনের: ৫০টি বাস
অনন্যা ক্ল্যাসিকের: ৫৭টি বাস
জলসিঁড়ির: ১০০টি বাস
উজানভাটির: ৩০টি বাস
হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জরুরি কাজে বা চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে ইচ্ছুক যাত্রীরা কাউন্টারে এসে গাড়ি না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প পথে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন।
এদিকে সরাসরি মহাখালী রুট বন্ধ থাকলেও বিকল্প হিসেবে কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব হয়ে গোলাপবাগ রুটে ‘অনন্যা সুপার’ ও ‘যাতায়াত’ পরিবহনের বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।