দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় তীব্র গ্যাসসংকটের কারণে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানার (জেএফসিএল) উৎপাদন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, কারখানাটিতে নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই চাপের গ্যাস প্রয়োজন হয়। তবে পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না করায় এবং গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় এই উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন গ্যাসসংকটের কারণে বন্ধ থাকার পর প্রয়োজনীয় গ্যাস পেয়ে গত ৬ অক্টোবর কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তবে বয়লার প্ল্যান্টে কারিগরি ত্রুটির কারণে দুই দিনের মাথায় ৮ অক্টোবর কারখানাটির উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে কারিগরি ত্রুটি মেরামত শেষে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরে। কিন্তু পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়ার আগেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রবিবার ভোর ৫টায় আবার সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই দুই দিনে কারখানায় মোট ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ যান্ত্রিক জটিলতা ও তীব্র গ্যাসসংকটের কারণে এর আগে টানা প্রায় আড়াই বছর কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত ও বন্ধ ছিল। দৈনিক ১২০০ থেকে ১৪০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনে সক্ষম এই কারখানাটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) নিবন্ধিত প্রায় ১,৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় সার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।