ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও সংগ্রাম জয় করা এক মাহামুদার জীবনযুদ্ধ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:৫৩ পিএম

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, চরম দারিদ্র্য আর নির্মম পারিবারিক ট্র্যাজেডিকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অদম্য লড়াকু নারীর নাম মাহমুদা আক্তার। শৈশবের ভুল চিকিৎসাজনিত পঙ্গুত্ব এবং স্বামীর প্রবঞ্চনা যার জীবনকে থামিয়ে দিতে পারেনি, বরং সংগ্রামের আগুনে পুড়েই তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার অসহায় নারীদের পথপ্রদর্শক। নিজের জীবনের চরম দুর্দিনেও এলাকার গরিব মেয়েদের বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার অনন্য এক মানবিক উপাখ্যান রচনা করে চলেছেন এই সংগ্রামী নারী।


মাদারীপুরের পৌর পেয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা মোনাসেফ চৌধুরীর মেয়ে মাহামুদা আক্তার। জীবিকার তাগিদে মাদারীপুর শহরে রিক্সা চালানো বরিশালের উজিরপুরের বারেক মল্লিকের সঙ্গে ২০০৩ সালে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পরের বছরই কোল আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান। কিন্তু ২০০৯ সালে স্ত্রী-সন্তানকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় ফেলে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যান স্বামী বারেক, দীর্ঘ ১৭ বছরেও যার কোনো খোঁজ মেলেনি। সেই থেকে শুরু হয় মাহামুদার একা জীবনযুদ্ধ।


জানা যায়, জীবনের শুরুতেই শৈশবে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলে চরম অর্থাভাবে সঠিক চিকিৎসা পাননি মাহামুদা। যার ফলে তাঁর বাম পা প্রায় অচল হয়ে পড়ে এবং তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। স্বামীর চলে যাওয়ার পর পেটের দায়ে অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ শুরু করলেও দমে যাননি তিনি। পরবর্তীতে কষ্ট করে সেলাই মেশিনের কাজ শিখে সেটাই বেছে নেন জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবে। নিজের এই শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সঙ্গী করেই তিল তিল করে সন্তানকে বড় করে তুলেছেন তিনি।


বর্তমানে নিজ বাড়িতেই ছোট একটি টিনশেড ঘরে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করছেন মাহামুদা। মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো জমি বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় খালেরপাড়ের সরকারি জায়গাতেই তাঁর ঠিকানা। টেইলারিং কাজ করে বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় মাত্র ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা, যা দিয়ে বর্তমান বাজারে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন বলে জানান তিনি। তবে নিজের কষ্ট ভুলে তিনি এখন এলাকার তরুণী ও নারীদের বিনা মূল্যে সেলাই কাজ শিখিয়ে সাবলম্বী করে তুলছেন। মাহামুদার কাছে কাজ শিখতে আসা মধুবালাসহ স্থানীয়রা জানান, তাঁর এই মহৎ উদ্যোগে এলাকার বহু নারী আজ নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।


এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিশ্বজিৎ বৈদ্য নাদিম বলেন, "মাহামুদার গল্প কেবল একজন নারীর ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশার গল্প নয়, এটি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও জীবিকার সংগ্রামের মধ্যেও টিকে থাকার এক বাস্তব চিত্র। এমন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সবসময় পাশে থাকবে।"


এ সম্পর্কিত আরো খবর