মোহাম্মদ বাকি অনিক, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্রে ময়লা-আবর্জনার অপরিকল্পিত স্তূপের কারণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম জলনিষ্কাশন পথ আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। নগরবাসীর অসচেতনতা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের চরম অভাবেই ঐতিহাসিক এই খালের স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণ আটকে গেছে। চারদিকে পচা দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উপদ্রবে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আগামী দিনে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লা নগরীর সালাউদ্দিন মোড় সংলগ্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফেলা ময়লা-আবর্জনা ও গৃহস্থালির বর্জ্যের স্তূপে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ঐতিহাসিক কান্দিখাল। এর ফলে পুরো নগরীর প্রধান পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খালটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিশাল পরিমাণে বর্জ্য জমে থাকায় পরিবেশ দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর দুপুর ৩ টায় গণমাধ্যমকর্মীর ক্যামেরায় সালাউদ্দিন মোড় সংলগ্ন কান্দিখালের এই ভয়াবহ দূষণের প্রকৃত চিত্র ধরা পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার অনিয়ন্ত্রিত প্রবণতা এবং সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে কান্দিখালের স্বাভাবিক প্রবাহ আজ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খালের বিভিন্ন পয়েন্টে পলিথিন, প্লাস্টিক ও পচাবর্জ্য জমে পানি চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে নগরীর সামগ্রিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই এই এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টির চরম ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে, খালে জমে থাকা পচা ময়লা-আবর্জনা থেকে ক্রমাগত ছড়ানো তীব্র দুর্ন্ধে আশপাশের এলাকার পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও বসবাস অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য অপসারণ ও খাল পরিষ্কারের কোনো কার্যকর দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ না করায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে। একই সঙ্গে খালের দূষিত পানি থেকে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো বিভিন্ন মারাত্মক মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বেড়েই চলেছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কান্দিখাল অবিলম্বে পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি খালে যেকোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা পুরোপুরি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জন্য সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নগরবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা, সালাউদ্দিন মোড় সংলগ্ন কান্দিখালের বর্তমান করুণ পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি খালে ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ বন্ধে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে খালটির হারানো ঐতিহ্য ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। এতে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিক হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধের তীব্র ভোগান্তি থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন এলাকাবাসী।