ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক বুথফেরত জরিপের (এক্সিট পোল) ফলাফলে বড় ধাক্কা খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট বিরোধীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ায় দেশটির রাষ্ট্রীয় পাবলিক ব্রডকাস্টার এক বিশ্লেষণে নেতানিয়াহুকে ইতিমধ্যেই এই নির্বাচনের 'বড় পরাজিত ব্যক্তি' হিসেবে অভিহিত করেছে।
গণমাধ্যমটির প্রধান শিরোনামে বলা হয়েছে, "নির্বাচনে কে জিতেছে তা এখনও অস্পষ্ট হলেও, ইতিমধ্যেই একজন বড় পরাজিত ব্যক্তি রয়েছেন, তিনি হলেন নেতানিয়াহু।" বুথফেরত জরিপে ভরাডুবির আভাস পেয়েই নেতানিয়াহু তার জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের জরুরি কল করা শুরু করেছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে তার দল লিকুদ পার্টি দলীয় সদস্যদের সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে।
এদিকে বুথফেরত জরিপের এই ফলাফলকে নেতানিয়াহু জোটের জন্য একটি "মারাত্মক পরাজয়" এবং সম্পূর্ণ ধস হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিড। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, "জনগণ তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে।" একই সুর মিলিয়ে ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট বলেন, প্রাথমিক এই পূর্বাভাস মূলত নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের প্রতি জনগণের চরম অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।
এই ফলাফল চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হলে তিনি অবিলম্বে ভোটারদের ইচ্ছা অনুযায়ী নেতানিয়াহুর সরকারকে হটিয়ে একটি নতুন সরকার গঠনে কাজ করবেন, যা সামরিক বাধ্যতামূলক নিয়োগকে (কনস্ক্রিপশন) অগ্রাধিকার দেবে। ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানও এক্স-এ লিখেছেন, "জনগণ তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে এবং তারা নেতানিয়াহুর সরকারকে বরখাস্ত করেছে।" তিনি একে ইসরায়েলে প্রকৃত পরিবর্তন আনার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে (পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। তবে ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার এবং চ্যানেল ১৩-এর বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী নেতানিয়াহুর ব্লক ৫০টি, গাদি আইজেনকোটের ব্লক ৫৩টি এবং আরব দলগুলো ১৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে চ্যানেল ১২-এর পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর ব্লককে ৫০টি, আইজেনকোটের ব্লককে ৫২টি এবং আরব দলগুলোকে ১৮টি আসন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না।
চ্যানেল ১২ আরও জানিয়েছে, এবার আরব ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল রেকর্ড ৮০ শতাংশ, যা আরব দলগুলোর জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭.৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়, তবে চূড়ান্ত ফল না আসা পর্যন্ত এই বুথফেরত জরিপগুলোকে প্রাথমিক পূর্বাভাস হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। সূত্র: ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার (কান), ইয়েদিওথ আহরোনথ, চ্যানেল ১২, চ্যানেল ১৩