কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সাথে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে। কানাডার অটোয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক চুক্তিগুলো সই হয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আবুধাবির কোনো যুবরাজের এটিই প্রথম কানাডা সফর।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ ও বিভক্ত বিশ্ব পরিস্থিতিতে কানাডা এবং ইউএই-এর মধ্যে নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব গভীর করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর দুই দেশের নেতাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। রেকর্ড মাত্র ৪৭ দিনে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিটি (সিইপিএ) উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে, বাণিজ্যিক সুযোগের প্রসার ঘটাবে এবং দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে। এছাড়া চালু হওয়া নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের মতো যৌথ অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হবে। সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক শিক্ষা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং যুবরাজ শেখ খালেদ কানাডায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত কানাডার জ্বালানি খাত, পরিবহন অবকাঠামো এবং প্রযুক্তির মতো প্রধান খাতগুলোতে বিনিয়োগ করা হবে। এছাড়া দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতামত বিনিময় করেন। তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং কার্যকর বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। সূত্র: কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)