এইচএসসিতে
পাসের বড় বিপর্যয়: অকৃতকার্য
৬ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষার্থীচলতি
বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার
ফলাফলেই ফুটে উঠেছে দেশের শিক্ষা খাতের এক আশঙ্কাজনক চিত্র।
প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ
বছর দেশজুড়ে গড়ে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২.১২ শতাংশে,
যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বড় ধরনের অবনমন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা
১১টার দিকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ
ন ম এহছানুল হক
মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল প্রকাশ
কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে
যাওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের চিন্তার
রেখা ফুটে উঠেছে।
শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের সরবরাহকৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে
মোট ১২ লাখ ৭০
হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ
নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে চূড়ান্তভাবে সাফল্য লাভ করে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬
হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে
চূড়ান্ত ফলাফলেই দেখা যাচ্ছে বিশাল এক অকৃতকার্যের তালিকা;
মোট ৬ লাখ ২৩
হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায়
পাস করতে পারেননি। মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়েও
দেখা গেছে ধস; এ বছর দেশজুড়ে
জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন
মাত্র ৪০ হাজার ৮৪
জন পরীক্ষার্থী।
বিগত
বছরের ফলাফলের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, পাসের হার ও মেধার শীর্ষ
অর্জনে এক বিশাল ব্যবধান
তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে গড় পাসের হার
ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ
এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯
হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী,
এমনকি ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১
লাখ ৪৫ হাজার ৯১১
জন—সেখানে এবার পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ
পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর
সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। পরিশেষে,
পরীক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের ওয়েবসাইটের
(eduboardresults.gov.bd এবং
educationboardresults.gov.bd) পাশাপাশি
নির্ধারিত রোল ও বোর্ড কোডসহ
নতুন ১৬১৪০ নম্বরে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে সংগ্রহ করতে পারছেন।