১৫
বছরে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের সর্বনিম্ন রেকর্ড: ফল মাত্র ৫২.০৭%
সাম্প্রতিক
সময়ে দেশের অন্যতম বড় শিক্ষা বোর্ড
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার
ফলাফলে এক ঐতিহাসিক ধস
নেমেছে। এই বোর্ডে গত
১৫ বছরের মধ্যে এ বছরই সর্বনিম্ন
পাসের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা
১১টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনকালে
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী প্রকাশ করেন যে, এ বছর পাসের
হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২.০৭ শতাংশে।
একই সঙ্গে সর্বোচ্চ সাফল্য জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক
থেকেও এক বিশাল পতন
পরিলক্ষিত হয়েছে; গত বছরের তুলনায়
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর
সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ২০১
জন।
চট্টগ্রাম
শিক্ষা বোর্ডের সরবরাহ করা বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, এ বছর বোর্ডের
অধীনস্থ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই
পাঁচ জেলা থেকে মোট ৯৯ হাজার ৮৭৮
জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যালোচনায় সফলভাবে পাস করতে পেরেছেন ৫০ হাজার ১৬৬
জন শিক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও লিঙ্গভিত্তিক মূল্যায়নে
দেখা যায়, এ বছরও ছাত্রদের
পেছনে ফেলে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। ছেলেদের পাসের হার ৪৭.৬২ শতাংশ
হলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে তা দাঁড়িয়েছে ৫৩.৪৯ শতাংশে। এছাড়া
মেধার শীর্ষে থাকা জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন
মোট ২ হাজার ৯২৯
জন শিক্ষার্থী।
ঐতিহাসিক
ডেটার দিকে তাকালে ২০১২ সালে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হওয়ার পর চট্টগ্রাম শিক্ষা
বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২.২৯ শতাংশ।
পরবর্তীতে করোনাকালীন বিশেষ মূল্যায়নে ২০২০ সালে শতভাগ পাসের ইতিহাস গড়ার পর ২০২১ সালেও
পাসের হার ছিল ৮৯.৪ শতাংশ।
তবে পরবর্তী বছরগুলো থেকে পাসের হার ক্রমান্বয়ে নামতে থাকে—২০২২ সালে ৭৮.৮%, ২০২৩
সালে ৭৪%, ২০২৪ সালে ৭০.৪% এবং
২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায়
৫২.৫৭ শতাংশে। কিন্তু
চলতি বছরে পাসের হার ৫২.০৭ শতাংশে
নেমে আসায় ১৫ বছরের অর্জনের
তলানিতে ঠেকেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।
উল্লেখ্য,
দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে গত ২ জুলাই
শুরু হওয়া লিখিত পরীক্ষা শেষে চট্টগ্রাম বোর্ডের কিছু পিছিয়ে যাওয়া অংশের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। ফলাফলপ্রত্যাশী পরীক্ষার্থীরা মোবাইল মেসেজ অপশনে গিয়ে 'HSC <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> ২০২৬' টাইপ করে নতুন ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে অনায়াসেই নিজেদের ফল পেয়ে যাচ্ছেন।