প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানতে চলেছে আরও একটি শক্তিশালী সাইক্লোন। ওড়িশায় ধ্বংসলীলা চালানোর পর এবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে ভয়ংকর গতিতে ধেয়ে আসছে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। যার নামকরণ করেছে ভারত, আর এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘যুদ্ধের ঢাক’। সম্ভাব্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশেষ ত্রাণ কমিশনার (এসআরসি) রাজেশ পি পাতিল জানান, এর আগে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় অর্ণব এবং এর ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ওড়িশায় অন্তত ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিধসের কবলে পড়ে নিখোঁজ ও হতাহতের উদ্ধারকাজ চালানোর সময় রবিবার আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় অর্ণবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এখনও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৭৩ হাজারের বেশি হেক্টর কৃষিজমি ও সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ পুনর্বাসন ও আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, অতি তীব্র এই ঘূর্ণিঝড়টি ২ ও ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ঝড়ের প্রভাবে ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানিয়েছেন, আসন্ন ‘মুরাসু’ মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ নিচু ও পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দক্ষিণ ওড়িশার বেশ কয়েকটি জেলায় স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। (সূত্র: এনডিটিভি)