ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া জাতিগত সহিংসতায় দুটি পৃথক স্থানে গোলাগুলি ও হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ডন’। নিহতরা সবাই সংঘাতপীড়িত অঞ্চলের কুকি উপজাতি সম্প্রদায়ের সদস্য বলে জানিয়েছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার রাজ্যের নোনে জেলায় অজ্ঞাত সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের সাথে সহিংস গোলাগুলির ঘটনায় কুকি উপজাতির তিন সদস্য নিহত হন। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কাংপোকপি জেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া কুকি সম্প্রদায়ের আরও দুইজনের লাশ নিরাপত্তা বাহিনীর দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর উদ্ধার করা হয়। কুকি উপজাতিদের শীর্ষ এক প্রতিনিধি সংগঠন এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে অভিযুক্ত করেছে এবং ঘটনাটিকে তাদের নিজস্ব আবাসভূমিতে অকারণ সশস্ত্র আগ্রাসন বলে বর্ণনা করেছে।
রাজধানী ইম্ফলসহ রাজ্য জুড়ে চলা এক গণবিক্ষোভের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, যেখানে লাখো মানুষ কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে ভারত সরকারের বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের জোরালো দাবি জানাচ্ছেন। প্রধানত খ্রিস্টান অধ্যুষিত কুকি ও নাগা উপজাতির মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূমি ও সামাজিক আধিপত্যের বিরোধের জেরেই নতুন করে এ সহিংসতার জন্ম হয়েছে। যা এ বছরের মে মাসে কয়েকজন কুকি যাজক নিহত হওয়ার পর অপহরণ ও পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নেয়। অন্যদিকে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের সাথেও রক্তক্ষয়ী সংঘাত চালিয়ে আসছে কুকিরা, যা এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। (সূত্র: ডন)