ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬,  ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেকৃবির গবেষণাক্ষেত্র রক্ষায় মাঠ গুঁড়িয়ে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ শিক্ষার্থীদের শেকৃবি মাঠে মেলা নয়, সচিবালয় স্থানান্তর বাতিলের দাবিতে গেট ভাঙচুর মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতায় নিহত ৫ অনুর্বর জমিতে ৩০ দিনেই ফুটলো জাফরান, লাদাখে কৃষির নতুন সম্ভাবনা অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ই-রিকশার গতিসীমা ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ, ৮ জোনে ভাগ হচ্ছে ঢাকা ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সামরিক মনোবল ভাঙন ও ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ: চরম সংকটে ইসরায়েল নির্বাচন শেষ হলেই ইরানে হামলার তাগিদ নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের নজর কূটনীতিতে গার্মেন্টস খাতে অস্থিতিশীলতা বরদাশত নয়, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনুর্বর জমিতে ৩০ দিনেই ফুটলো জাফরান, লাদাখে কৃষির নতুন সম্ভাবনা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:০৪ পিএম

কৃষিবিজ্ঞানের সব সমীকরণ ও ধারণাকে এক লহমায় বদলে দিয়ে হিমালয়ের রুক্ষ ও শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চল লাদাখের অনুর্বর জমিতে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ঘটনা। যেখানে চরম প্র প্রতিকূল জলবায়ু আর কড়া ঠাণ্ডায় ফসল ফলানো প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হতো, সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণের মাত্র ৩০ দিনের মাথায় ফুটেছে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান মসলা জাফরান। সরকারি তদারকিতে শুরু হওয়া এই অভিনব উদ্যোগে প্রত্যাশার চেয়েও দ্বিগুণ দ্রুত গতিতে ফলন আসায় হিমালয়ের পাদদেশে উচ্চমূল্যের কৃষি সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, যা পুরো বিশ্বকেই অবাক করে দিয়েছে। (সূত্র: এনডিটিভি)


ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের স্পিতুক ফারকায় পুনরুদ্ধার করা জমিতে এ প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। গত ১ অক্টোবর আনুমানিক ৪ হাজার বর্গমিটার জমিতে ইরানের উন্নতমানের প্রায় ৯০ হাজার জাফরান কন্দ রোপণ করা হয়, যার মোট ওজন ছিল প্রায় ৮০০ কেজি। প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা ছিল ফুল ফুটতে অন্তত দুই মাস সময় লাগবে, কিন্তু মাত্র চার দিনের মাথায় সেখান থেকে প্রায় ২২ গ্রাম মূল্যবান জাফরান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। গত রবিবার সকালে এক দিনেই সর্বোচ্চ ৭২টি ফুল ফোটার রেকর্ড তৈরি হয়, যা কর্মকর্তাদের দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে। লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনার দূরদর্শী উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘প্রকল্প হিম সরোবর’-এর অধীনে ইগু-ফে সেচ খালের উদ্বৃত্ত পানি ব্যবহার করে এ অনুর্বর জমিকে চাষ উপযোগী করা হয়।


ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে জাফরান চাষ জম্মু ও কাশ্মীরের পাম্পোর অঞ্চলের একচেটিয়া আধিপত্য হিসেবে পরিচিত, যেখানে দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ তৈরি হয়। অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও মূল্যবান এই মসলার প্রতিটি ফুলে কেবল তিনটি সূক্ষ্ম লাল গর্ভদণ্ড থাকে, যা চরম সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করতে হয়। এর আগে বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের (সিএসআইআর) অধীন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা প্রায় দুই বছর ধরে লেহ ও কারগিলে এর সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। জাফরানের পাশাপাশি বর্তমানে সেখানে লিলিয়াম ও গ্ল্যাডিওলাসের মতো চড়া দামের ফুলের চাষও পরীক্ষা করা হচ্ছে। বার্ষিক ১০০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাতের এই দুর্গম ভূখণ্ডে বরফ গলা পানি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে অনুর্বর জমিকে সোনায় রূপান্তর করার এই সাফল্য স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষকদের জীবিকায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। (সূত্র: এনডিটিভি)


এ সম্পর্কিত আরো খবর