এশিয়ান গেমস হকির বড় হারের মধুর প্রতিশোধ! এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ড্র তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক আশরাফুল ইসলামের বীরত্বপূর্ণ গোলে মহামূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে স্বস্তি ফিরে পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ভারতের জলন্ধরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে এক পয়েন্ট অর্জন করেছে বাংলাদেশ। চলমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এর আগে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে হারলেও আজকের এই ড্র দলের জন্য একটি বড় অর্জন ও মানসিক স্বস্তির বিষয় হয়ে এসেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দেয় চীন। প্রথম কোয়ার্টারেই দুর্দান্ত আক্রমণ চালিয়ে চীনের খেলোয়াড়েরা গোল করে এগিয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে উভয় দলই আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণে ব্যস্ত থাকলেও কোনো দলই গোল করতে সফল হয়নি। ফলে গোলশূন্য এই কোয়ার্টার শেষে ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টারে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ দল। এ সময় প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে আক্রমণ শাণালে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে আস্থার প্রতীক অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন। ১-১ গোলে সমতায় ফেরার পর ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
শেষ ও চতুর্থ কোয়ার্টারে উভয় দলই গোলের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। কিন্তু দুই দলের আক্রমণভাগের দৃঢ়তা এবং রক্ষণভাগের সতর্কতার কারণে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুদলকে। এই এক পয়েন্ট অর্জনের ফলে পয়েন্ট টেবিলে কিছুটা স্বস্তি মিলল বাংলাদেশ দলের জন্য।
এর আগে এশিয়ান গেমস হকিতে ষষ্ঠ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চীনের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে বাধ্য হয়েছিল দল। যার কারণে আগামী এশিয়ান গেমসের বাছাই ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল বাংলাদেশের। তবে আজকের এই ড্রয়ের মাধ্যমে সেই পুরোনো হারের কিছুটা প্রতিশোধই নিল লাল-সবুজের হকি প্রতিনিধিরা।
টুর্নামেন্টের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ১৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে আসর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে লড়াই করেও মাত্র ১-০ গোলে হেরে যায় দল। এরপর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৬-১ এবং জাপানের বিপক্ষে আরও একটি বড় ব্যবধানে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয় বাংলাদেশকে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড হকি লিগে চীনকে পরাজিত করার ইতিহাস রয়েছে বাংলাদেশের। এরপরও তাদের বিপক্ষে ড্র করেছিল লাল-সবুজরা। তবে ঠিক এক মাস আগে গত ১ অক্টোবর জাপানের আইচি নাগোয়ায় বড় ব্যবধানে হারের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল, ভারতের মাটিতে চীনকে রুখে দিয়ে সেই ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিল বাংলাদেশ হকি দল।