যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে নিজ দেশে ফিরে গেছেন ইরানি আলোচকরা। তবে আলোচনা ভেঙে যায়নি, বরং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পর্যালোচনার কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে পরবর্তী দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
রোববার ইরানি প্রতিনিধিদলের দোহা ত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আলোচনা কোনো ধরনের জটিলতা বা ব্যর্থতার মুখে পড়েেনি। বরং খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে উভয়পক্ষই এখন নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য একটি সাত দফা পরিকল্পনা পেশ করেছিল তেহরান। বর্তমান সমঝোতা চুক্তির অধীনে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি। কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের বার্তা ও অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় পৌঁছে দিচ্ছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক এবং ন্যায়সঙ্গত। তিনি বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান, ইরানের সকল দাবির প্রতি সম্মান এবং দেশটির ন্যায্য প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না তেহরান। এমনকি এই দাবিগুলো পূরণ না হলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করাও অসম্ভব বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
এদিকে, কাতারের সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যে সাত দিনের কর্মপরিকল্পনা ছিল, তা কমিয়ে মাত্র দুই দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে ইরানের এই প্রাথমিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই মূলত এই শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসবে বলে ইরান মনে করে না।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন কোনো সামরিক হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে কিছু বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। তবে একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স।