শিক্ষার মন্দির আজ কোথায় এসে ঠেকেছে! খেলাধুলার আনন্দ উদযাপনের নামে বরগুনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে ভাড়ায় আনা নারী নিয়ে রাতভর অসামাজিক কার্যকলাপ ও অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে। এই লজ্জাজনক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বরগুনার তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে কক্ষের তালা ভেঙে রাতভর অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে আনন্দ উদযাপনের জন্য স্কুলের পাশেই রাতে একটি পিকনিকের আয়োজন করে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন কমিটি।
কিন্তু সেই আনন্দ উৎসব রূপ নেয় চরম অরাজকতায়। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে একটি শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলা থেকে দুজন নারীকে ভাড়া করে এনে সেখানে রাতভর অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এই অনৈতিক কার্যক্রমে স্থানীয় বেশ কয়েকজন পুরুষও অংশ নেন বলে জানা গেছে। গত রোববার (১ নভেম্বর) রাতে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ন্যাক্কারজনক অসামাজিক কার্যকলাপের দৃশ্য সামনে আসায় স্কুলটির পবিত্রতা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্ন শ্রেণিকক্ষের ভেতরে দুজন নারী অসংযত ও অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করছেন এবং তাদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন হাততালি দিয়ে আনন্দে মেতে উঠছেন। ভিডিওতে নাচতে দেখা যাওয়া ফুটবল আয়োজন কমিটির অন্যতম সদস্য মোয়াজ্জেম তালুকদার (আলাল) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ফুটবল খেলা শেষে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। রাতে হঠাৎ বৃষ্টি নামায় তারা স্কুলের ভেতরে আশ্রয় নেন এবং সেখানে দুই-একটি নাচ অনুষ্ঠিত হয়। তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে তাঁকে দেখা গেলেও স্থানীয় লোকজন তাঁকে টেনে তুলেছিল এবং কে বা কারা ভিডিও ধারণ করেছে তা তাঁর জানা নেই। এছাড়া নাচতে আসা দুই নারী স্থানীয় কেউ নন, তাঁদের আমতলী থেকে আনা হয়েছিল।
এদিকে পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে এমন কর্মকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় কুমার ঢালি জানান, গত শুক্রবার তারা এই অনুষ্ঠান করেছে, যা তিনি পরবর্তীতে জানতে পেরেছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোনো কিছু না জানিয়ে এবং অনুমতি না নিয়ে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে ও কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়েছে। এই গুরুতর বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে ভেতরে ঢুকে কক্ষের তালা ভেঙে এ ধরনের অনৈতিক ও গর্হিত আয়োজন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইতিমধ্যে আমরা প্রধান শিক্ষককে তলব করেছি। ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভিডিওতে যে দৃশ্য দেখা গেছে তা স্পষ্টতই স্কুলের ভেতরের এবং এমন অসামাজিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও কলঙ্কজনক আয়োজন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।