পোশাক শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনে উত্তাল গাজীপুর। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের তিনটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও শিল্প পুলিশের যৌথ অভিযানে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকায় এই সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, কোনাবাড়ী এবং কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ ও হরিণহাটি এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। ধীরে ধীরে এই আন্দোলন তীব্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। সকাল ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছিটকে দেওয়া ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হন। শ্রমিকদের প্রতিহত করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
দুপুর গড়ালে নাওজোড় এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে কঠোর অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং মহাসড়কে চলাচলকারী অন্যান্য অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর কাঠ ও বাঁশের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া কাশিমপুর এলাকাতেও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় আজকের মতো ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, দুপুরের দিকে পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির সদস্যরা দ্বিমুখী অভিযানে নামলে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।