ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬,  ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, মোট ছুটি ২৯ দিন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের পাল্লা কোন দিকে? কোম্পানীগঞ্জে মিলল গ্যাস, ২০ বছর উত্তোলনের পরিকল্পনা মিরপুরে সংঘাত ও অগ্নিসংযোগ: ৪ মামলায় সাড়ে ১০ হাজার আসামি যুদ্ধ শেষের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে দোহা ছাড়ল ইরানি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা অধিনায়ক আশরাফুলের দুর্দান্ত গোলে শক্তিশালী চীনকে রুখল বাংলাদেশ স্কুলের তালা ভেঙে নারী নিয়ে রাতভর নাচ, ভাইরাল ভিডিও চা থেকে চিরদিন: রাজধানীতে তরুণ-তরুণীদের ব্যতিক্রমী চা-চক্র এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে বিপাকে কংগ্রেস, কটাক্ষ করলেন কিরেন রিজিজু

এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে বিপাকে কংগ্রেস, কটাক্ষ করলেন কিরেন রিজিজু


  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:৫৮ পিএম

জনসমাগম বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আশ্রয়! দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের মেগা সমাবেশ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। সমাবেশে লোকসংখ্যা বেশি দেখাতে এআই-নির্মিত ছবি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে।


ভারতের বিরোধী জোটের সমাবেশে জনসমাগম বেশি দেখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করেছে কংগ্রেস—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রধান বিরোধী দলটিকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর দাবি, সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম ছবির সাহায্য নিয়েছে কংগ্রেস, যা সঠিকভাবে তৈরি করতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত বিরোধী জোটের বিশাল সমাবেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বংশী গাড্ডাম ও দলের অন্য নেতাদের প্রকাশিত জনসমাগমের একটি ছবি যুক্ত করে রিজিজু এই অভিযোগ করেন।


রিজিজু তাঁর পোস্টে লেখেন, রামলীলা ময়দান পূর্ণ ছিল—এমনটা দেখাতে কংগ্রেসের ভুয়া বয়ান তৈরির দল যে এআই দিয়ে ছবি বানিয়েছে, সেটিও তারা ঠিকমতো করতে পারেনি। এদিকে কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জগদীশ ঠাকুরও একই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ছবিটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। প্রকাশিত ছবিতে সমাবেশের মঞ্চে রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর উপস্থিতি দেখানো হলেও মঞ্চটির সঙ্গে সমাবেশস্থলের প্রকৃত মঞ্চের বিস্তর ফারাক রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।


শুরু থেকেই এই সমাবেশকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে দাবি করে আসছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে সমাবেশস্থলের ফাঁকা চেয়ারের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয় যে, রামলীলা ময়দানের অন্তত ৪০ শতাংশ জায়গাই ফাঁকা পড়ে ছিল। সমাবেশের আগে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূটিতে ১০ লাখ মানুষ অংশ নেবে বলে বড় দাবি করা হয়েছিল। তবে বিজেপির সংসদ সদস্য ও মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, কংগ্রেস ১০ লাখ মানুষের সমাগমের কথা বললেও মাঠের বড় একটা অংশ জুড়ে ফাঁকা চেয়ার পড়ে ছিল। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখাতে চতুরতার সঙ্গে কারসাজি করা হয়েছে, তবে এ ধরনের কৌশল কাউকে দেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে পারবে না।


বিজেপির এমন লাগাতার অভিযোগের জবাবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমাবেশের ড্রোনে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করা হয়। দলের দাবি, এই মহাসমাবেশে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। এদিকে সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দেশের লোকসভা নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার কারণেই নির্বাচনে ভোট চুরি করা হয়েছে। রাহুল আরও বলেন, এই ভোট চুরি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি দেশের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর চুরির শামিল এবং একে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহ বলা চলে। তিনি অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার পদে না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। নির্বাচনী অনিয়মে ভূমিকার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে একদিন কারাগারে যেতে হবে বলেও কঠোর হুশিয়ারি দেন তিনি।


রাহুল গান্ধীর এমন বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, রামলীলা ময়দানে দাঁড়িয়ে নির্বাচনকে অবৈধ বললেই তা সত্যি বা প্রমাণিত হয়ে যায় না। নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের আপত্তি থাকলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময়ে আইনি আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি। পাত্র আরও বলেন, নির্বাচনের পরপরই তা চ্যালেঞ্জ জানাতে হয়, জনসভায় দাঁড়িয়ে এভাবে নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচন অবৈধ—এমন অভিযোগে কংগ্রেস যে আবেদন করেছে, সেটি জনসমক্ষে দেখানোর চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন তিনি।


উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক ও যৌথ আন্দোলনের অংশ হিসেবেই দিল্লির রামলীলা ময়দানে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক দিন ধরেই আপত্তি ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ভারতের বিরোধী দলগুলো।


এ সম্পর্কিত আরো খবর