ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার ৪০ জনের কেউই পেশায় শ্রমিক নন বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তৈরি পোশাক শিল্প অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) এবং আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থিত হা-মীম গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পকারখানা সরজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি পুলিশের এই কঠোর অবস্থান ও সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পোশাক খাতের সাধারণ ও প্রকৃত শ্রমিকদের যৌক্তিক ও ন্যায্য আন্দোলনকে পুঁজি করে একদল সুযোগসন্ধানী দুষ্কৃতকারী ও বহিরাগত গোষ্ঠী ভেতরে অনুপ্রবেশ করছে। পোশাক শিল্প খাতকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করতেই মূলত একটি সুনির্দিষ্ট চক্রান্তকারী মহল শ্রমিকদের মাঝে মিশে গিয়ে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এই ধরনের নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করতে ব্যাপকভাবে মাঠে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরণের তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্দোলনের নামে যেকোনো বহিরাগত সুযোগসন্ধানী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে তাদেরকে অবিলম্বে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই সময় কারখানাগুলোর সাধারণ ও প্রকৃত শ্রমিকদেরকেও এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
পরিদর্শনকালে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান যে, শিল্পাঞ্চল তথা পুরো দেশকে অস্থিতিশীল করার এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে মুখ ঢাকা, বোরখা পরিহিত ও হেলমেটধারী একটি বিশেষ গোষ্ঠী সাধারণ শ্রমিকদের বিভ্রান্ত ও উসকানি দিচ্ছে। এই চক্রটিকে পেছন থেকে কারা অর্থ ও ইন্ধন জোগান দিচ্ছে, সে বিষয়েও পুলিশের নিকট অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। বর্তমানে সাভার ও আশুলিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শ্রমিকরা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কাজ করছেন। তবে ভবিষ্যতে কেউ যদি শিল্পের পরিবেশ বিনষ্ট বা নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ইশান ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।