শেখ হাসিনাকে সমর্থনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে: এইচআরডব্লিউ
বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে শাস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, সুষ্ঠু তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
লন্ডন থেকে ৪ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানায়, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২০টিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতের দলভিত্তিক আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, স্বৈরাচারী শাসকদেরই মুক্ত আলোচনাকে ভয় পাওয়া উচিত, নতুন সরকারের আমলে ক্ষমতার রদবদল ঘটলেও পুরানো আচরণের পুনরাবৃত্তি সমীচীন নয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪৪ জন শিক্ষকের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়, যার মধ্যে ৬ জনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ১৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া ১২৬ জন শিক্ষার্থীর সনদ স্থগিত ও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষককে বরখাস্ত ও ৩৪ জনের কর্মপরিধি সীমিত করা হয়েছে। অন্যদিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষককে বরখাস্তসহ ৮৫ জনের পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, বাকৃবির অধ্যাপক পূর্বা ইসলাম ও অধ্যাপক ইয়াহিয়া খন্দকারের ওপর আনা বিভিন্ন অভিযোগ ও বরখাস্তের আদেশ বিশ্লেষণ করে জানায়, প্রচারিত ফুটেজ বা ভিডিওতে তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রমাণের সত্যতা মেলেনি। সংস্থাটি জানায়, ইতোমধ্যে তিনজন শিক্ষক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। শান্তিপূণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশ বা সমর্থনের কারণে কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি বলে সতর্ক করেছে এইচআরডব্লিউ।
সূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)