তল্লাশিকালে পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় ভুয়া পুলিশ সন্দেহে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার দুই পুলিশ সদস্য ও তাদের এক সোর্সকে মারধর করে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) রাত ৮টার দিকে জেলা শহরের পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের বাসে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে তাদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শিক্ষক, পুলিশ প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এক সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পতি করা হয়।
ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন—কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল মো. হানিফ এবং তাদের সোর্স জাহিদ।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে বাসের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাচ্ছিলেন কুবি পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প। পথিমধ্যে পুলিশ পরিচয়ে তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালানো শুরু করেন ওই ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অফিশিয়াল পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এতে সন্দেহ দানা বাঁধলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়ে তাদের ভুয়া পুলিশ মনে করে মারধর ও টেনে-হিঁচড়ে কুবিগামী বাসে তুলে ফেলেন। পরবর্তীতে তাদের মারতে মারতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রক্টরের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ উপস্থিতিতে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং উভয় পক্ষের ভুলবোঝাবুঝির অবসান ঘটে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এএসআই শ্যামল সাহা জানান, পরিচয়পত্র না থাকলেও ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা করা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা মব সৃষ্টি করে তাদের তুলে নিয়ে যায়। অন্যদিকে কুবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, ‘পরিচয়পত্র ছাড়া তল্লাশি চালানো ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্যাম্পাসে তুলে আনা—উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস মব কালচার থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরাসরি বাসে তুলে না এনে জরুরি সেবা ৯৯৯ বা থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধান করা উচিত ছিল।