বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক প্রতারণা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। ক্ষিপ্ত জনতা পুলিশকে পিটিয়ে আহত করার পাশাপাশি আসামিকে ছিনিয়ে নেয় এবং পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে। এই আকস্মিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার নারীকে আটক করেছে, তবে মূল আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া গ্রামের সালাম মাস্টারের ছেলে গোলাম কবির সুমন (৩৬) একটি প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাতলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল কুমার দাস ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী হাসান পুলিশি পিকআপ ভ্যান নিয়ে ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। কিন্তু আসামিকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পিকআপ ভ্যানে তোলার মুহূর্তে হঠাৎ করেই স্থানীয় কিছু লোক সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়।
হামলাকারীরা দুই পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধর করে গোলাম কবির সুমনকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। শুধু তাই নয়, উন্মত্ত জনতা পুলিশের সরকারি পিকআপ ভ্যানটিতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে সোনাতলা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে থানায় নিয়ে আসার সময় সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার নারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক মূল আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।