চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর মধ্যে নির্মিত অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা ২০টি অবৈধ চায়না জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে এসব অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ। এ সময় তাঁর সঙ্গে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান শেষে উচ্ছেদ করা বাঁধের বাঁশগুলো ঘাটে এনে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামে বাঁশগুলো ৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
জানা যায়, পদ্মা নদীর চরশালেপুর ও চর মির্জাপুরের খাঁ এলাকায় অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। এতে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ জেলেরা মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগও ওঠে।
এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী জেলেরা অবৈধ বাঁধ অপসারণের দাবিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ বাঁধ অপসারণের নির্দেশনা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে পদ্মা নদীর অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ এবং ২০টি চায়না জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করে।
বাঁধ উচ্ছেদের পর স্থানীয় জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, অবৈধ বাঁধ অপসারণের ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও মাছের বিচরণক্ষেত্র ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয় জেলেদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কেউ যেন আবার পদ্মা নদীতে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে মাছের অবাধ বিচরণ ও সাধারণ জেলেদের জীবিকার পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।