মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ৯ নভেম্বর রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকার আকাশকে কাজে লাগিয়ে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার এক ভয়ংকর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ও এক্সিওসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই বিশেষ রাতে অমাবস্যার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই চাঁদ সূর্যের আগেই অস্ত যাওয়ার ফলে রাতের আকাশ থাকবে সম্পূর্ণ অন্ধকার। আর এই নিখুঁত অন্ধকার ও আলোর অনুপস্থিতিকে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানের জন্য সবচেয়ে ‘আদর্শ সময়’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন মার্কিন নীতিনির্ধারকরা।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে হোয়াইট হাউসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সম্ভাব্য সামরিক আঘাত হানার নির্দিষ্ট তারিখ হিসেবে আগামী ৯ নভেম্বরকে সামনে রেখে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই স্পর্শকাতর বিষয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যে, ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চাঁদের উপস্থিতি না থাকায় আলোর পরিমাণ থাকবে নগণ্য, যা তাদের সামরিক কৌশল বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে এই গোপন বৈঠকের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে এবং তা যেন পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই আমি যেকোনো মুহূর্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ প্রয়োজন হলে আস্ত ইরানকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘আমি কখনোই চাই না পুরো ইরান ধ্বংস হয়ে যাক, তবে পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে আমাকে এটি করতেই হবে। এ বিষয়ে আপনারা খুব দ্রুতই জানতে পারবেন।’ প্রসঙ্গত, ওয়াশিংটনের এমন আগ্রাসী মনোভাব এবং অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হামলার খবরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে গভীর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র -ফক্স নিউজ, এক্সিওস