যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাট পার্টির ঐতিহাসিক জয় অর্জিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করাকে নিজেদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার। স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
চাক শুমার দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে কাজ করবে ডেমোক্র্যাট দল। বিগত নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছেন। মার্কিন পরিবারগুলোর চরম অর্থনৈতিক উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন বাজারসদাই, জ্বালানি তেল কেনা কিংবা চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে ভীষণ চাপের মুখে রয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফলের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে শুমার জানান, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অসন্তোষই ভোটারদের ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে রায় দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সাধারণ মানুষের পরিবর্তনের দাবি বুঝতে ব্যর্থ হয়ে রিপাবলিকানরা কেবল ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের তীব্র সমালোচনা করে শুমার বলেন, মার্কিন জনগণ কোনোভাবেই বুঝতে পারছে না যে কেন এই যুদ্ধ চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, "এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, অবশ্যই করতে হবে।" প্রেসিডেন্টের অবারিত যুদ্ধযাত্রার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা কঠোরভাবে প্রয়োগ করার হুশিয়ারিও দেন তিনি।
পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন যদি আইন বা মার্কিন জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে ডেমোক্র্যাটরা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কঠোর তদন্ত, আইনি পদক্ষেপ এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে বলে জানান চাক শুমার। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কোনো সীমাহীন ক্ষমতা না ভেবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের এক বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।