যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান পার্টির হাতছাড়া হয়ে ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই ক্ষমতার পালাবদলের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের ভূরাজনীতি ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসে এই পরিবর্তনের ফলে ভারতের জন্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিমালায় দীর্ঘ মেয়াদে কিছুটা শিথিলতার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে পাকিস্তানের করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো এখন মার্কিন কংগ্রেসের জোরালো তদন্তের মুখে পড়তে পারে।
ভারতের জন্য কী সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে:
নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর রাজনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকায় ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি থাকতে পারে। ভারতও এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনুকূল শর্তে চুক্তি করতে চাইছে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম বা চীনের মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় উন্নত শুল্ক সুবিধা পেতে চায় নয়াদিিল্লী। তাছাড়া, ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল হওয়ায় ভারতীয় আলোচকরা এখন কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারেন।
অভিবাসননীতির ক্ষেত্রে, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ডলার ফি এবং কঠোর বিধিনিষেধের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের ওপর। এখন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মার্কিন প্রযুক্তি খাত এর মাধ্যমে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা নিয়ে জোরালো তদন্ত ও আলোচনা হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক হতে পারে। তবে মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক কঠোর অবস্থানের কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েনের শঙ্কাও রয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ:
ভারতের বিপরীতে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিতে পারে। বিগত দেড় বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিশেষ করে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যানশিয়াল’ ও চালকবিহীন ড্রোন প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং নিউ ইয়র্কের রুজভেল্ট হোটেল সংস্কার সংক্রান্ত চুক্তিগুলো বেশ আলোচিত ছিল।
কিন্তু এখন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প পরিবারের এই ব্যবসায়িক লেনদেন ও সমঝোতা স্মারকগুলো কঠোর তদন্তের মুখোমুখি হতে পারে। কংগ্রেসের নজরদারির কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের করা চুক্তিগুলো প্রকাশ্য বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, যা পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফল ভারত ও পাকিস্তানের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।