যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর প্রকাশিত ফলাফলে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং উচ্চকক্ষ সিনেট—উভয়েরই নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি মার্কিন ভোটারদের প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক দীর্ঘ বার্তায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। ভ্যান্স নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপকারীর বরাত দিয়ে জানান, ট্রাম্প শিবির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কী পদক্ষেপ নিলে তারা আবারও রিপাবলিকানদের সমর্থনে ফিরে আসবেন।
জরিপে ভোটারদের উত্তরের সারসংক্ষেপ হিসেবে মূলত ৪টি প্রধান দাবি সামনে এসেছে:
১. ইরান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করা।
২. নিত্যপ্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর দেওয়া।
৩. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা।
৪. ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আনা।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের মতে, ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের মূল কারণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও যুদ্ধ এবং তেলের দাম বৃদ্ধি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন প্রশাসনের নীতি ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের ওপর জনগণের একটি বড় রায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।