ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,  ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে সারের তীব্র হাহাকার, রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে মুক্তি পেয়েই ১৫০ কোটি রুপি ছাড়াল ‘রামায়ণ’ ঢাবি ক্যাম্পাসে ৯টি ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ ভাটারায় দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর কড়া নির্দেশ গাজীপুরে ফের শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ কুমিল্লার কটক বাজারে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে চটপটির দোকান, ক্ষুব্ধ সচেতন মহল কাভেম হজের সেঞ্চুরি: চতুর্থ দিনে চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রাথমিকে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:০২ এএম

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক শিখন দক্ষতা জোরদার ও শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে এক বিশাল মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর পড়া, লেখা ও গণিতের মতো মৌলিক দক্ষতা বাড়াতে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল অর্থায়ন অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক। গত ৬ নভেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ সভায় ঐতিহাসিক এই অর্থায়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।


বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় সক্ষম ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি গড়ে তুলতে বিশ্বব্যাংকের এই কর্মসূচিটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরাসরি অর্থায়ন জোগাবে। যদিও বাংলাদেশে প্রাথমিকে প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার অর্জিত হয়েছে, তবুও শিক্ষার গুণগত মান এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫০ শতাংশই তাদের বয়সোপযোগী সহজ কোনো লেখা পড়ে তা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারে না—যেখানে মালয়েশিয়ায় এই হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।


এই পটভূমিতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে মন্তব্য করেন যে, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা হলো একটি দক্ষ জাতি গঠনের ভিত্তি। গত দুই দশকে সংস্থাটি প্রায় সব শিশুর বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে, তবে নতুন এই অর্থায়ন মূলত শিশুদের শেখার মান উন্নত করতে এবং ঝরে পড়া রোধ করে ভবিষ্যতে উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।


কর্মসূচির আওতায় মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ চালু করা হবে, যার মধ্যে উন্নত শিক্ষণ উপকরণ, সুনির্দিষ্ট পাঠপরিকল্পনা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রধান শিক্ষককে নেতৃত্বের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা কাঠামোর সংস্কার করা হবে। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং কর্মসূচির দলনেতা তাশমিনা রহমান জানান, কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর শিক্ষার্থীদের বাড়তি শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হবে। একই সাথে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত করে শিশুদের ভর্তির শুরুতেই শেখার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।


কর্মসূচিটির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)-এর অধীনে এই ২৫ বছর মেয়াদি ঋণের অর্থায়ন প্রদান করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা বিশেষ ছাড় সুবিধা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর