বিনোদন প্রতিবেদক
সমাজ সচেতনায় বাস্তবভিত্তিক গল্প নিয়ে ‘অন্ধকারে আলো’ সিনেমা তৈরির কাজ সম্পন্ন। এখন সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়ার প্রস্তুতি। অনুমোদন পেলেই কোরবানী ঈদের আগেই মুক্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযোজক মীর লিয়াকত আলী বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে ‘অন্ধকারে আলো’ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বিকল্প প্রদশর্ণীর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাই ব্যতিক্রমী প্রচারের মাধ্যমে সিনেমা হল এবং পর্যায়ক্রমে জেলা-উপজেলা-বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়াম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে। সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখা ব্যয়বহুল-যা বহন করার সামর্থ্য নেই অনেকের। তাই তিনি সিনেমাটি বিকল্প প্রদর্শনীর মাধ্যমে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান।
সিনেমার পরিচালক আনোয়ার সিরাজী। এর আগে তিনি সোনার ময়না পাখি, অরুন শান্তি, খাঁচার পাখির ‘ মতো অনেক দর্শকপ্রিয় সিনেমা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সিংহভাগ মানুষ বিভিন্ন কারণে হলবিমুখ। তারা পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখার দীর্ঘদিনের অভ্যাস ত্যাগ করেছে। কিন্তু ‘অন্ধকারে আলো’ পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো সিনেমা, নেই কোন অশ্লীলতা।
ছবিতে অভিনয় করেছেন- রাকিব, মুসকান, তিথী, মিথিলা, ফরহাদ, রেবেকা, জ্যাকি আলমগীর, ফিরোজ আলম, আনোয়ার সিরাজী, ববি, রেজা হাসমত, অলকা সরকার, সানু, হরেরাম, আহসাউল্লাহ, সালাউদ্দীন, হুমায়ুন কবীর, হাসেমুজ্জামান, রতন, রাজু, সাজুসহ আরো অনেকে।
এস এম পান্নার সংগীত পরিচালনায় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন-আবু বকর সিদ্দিক, অর্জুন কুমার বিশ্বাস, সাজু আহমেদ ও রেহেনা আক্তার জ্যোতি।
আকাশজমিন প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ছবির গল্পে ‘অন্ধকার গ্রামে ধীকৃত এক যুবকের জীবন কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে- চরিত্রহীন বাবা, পারিবারিক অশান্তি, বার বার মেট্রিক ফেল, প্রেমে ব্যর্থ, যেখানে-সেখানে তিরস্কার। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে যুবক কুতুব আলী আত¥হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। যান জঙ্গলে। গলায় রশি। আবুল চাচা দেখে ফেলে। ব্যর্থ হয়ে সরাসরি ঢাকায়। গাড়ি থেকে নেমেই এবার ছিনতাইয়ের কবলে। হাউমাউ কান্না। নামকরা এক পত্রিকার সম্পাদক তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কাজ দেন গাড়ি ধোঁয়ামোছার।
ভালো পরিবেশ পেয়ে কুতুব আলী একে একে শিক্ষায় আলোড়ন, ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের মধ্যে পত্রিকার সম্পাদক, সম্পাদকের মেয়েকে বিয়ে এবং গোপনে নিজ গ্রামে অত্যাধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্ধকার সমাজকে আলোর পথ দেখিয়েছে।
সেই স্কুলের অনুষ্ঠানে কুতুব আলী প্রধান অতিথি হয়ে আসেন। দীর্ঘ ২৪ বছর পর অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে বাবা-ছেলের সাক্ষাৎ মিলে। এসময় ছেলের বুকেই বাবার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। মীর লিয়াকত আলী রচিত এসব হূদয় বিদারক গল্প নিয়েই ‘অন্ধকারে আলো’ সিনেমা।
আকাশজমিন/আরআর