ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাসায়নিক পরীক্ষায় মানহীন কিটক্যাট, নেসলের বিরুদ্ধে মামলা


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৯ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৫৩ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

বাজারে বিক্রি হওয়া কিটক্যাট চকলেটের মান নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষাগারে দুধের পরিমাণ ও মান নির্ধারণে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নেসলে–এর এই পণ্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিটক্যাট চকলেটে দুধের কঠিন অংশ থাকা উচিত ১২ থেকে ১৪ শতাংশ, কিন্তু পরীক্ষায় পাওয়া গেছে মাত্র ৯.১২ শতাংশ। একইভাবে দুগ্ধ চর্বির মান ২.৫ থেকে ৩.৫ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও পরীক্ষায় পাওয়া গেছে মাত্র ১.১৬ শতাংশ।

এই ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকার স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) মোহাং কামরুল হাসান। মামলায় সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ নামের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং এর মালিক মো. মোজাম্মেল হোসাইন–কে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ফকিরাপুলের আমানিয়া বেকারি অ্যান্ড সুইটস থেকে মোড়কজাত অবস্থায় ১ কেজি ওজনের কিটক্যাট সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় কিটক্যাট চকলেটকে মানহীন ঘোষণা করা হয়।

এরপর বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে নোটিশ দিলে তিনি জানান, চকলেটগুলো সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে আমদানি করা এবং নেসলে কর্তৃক উৎপাদিত। নোটিশে তাদের কাছে লাইসেন্স, ক্যাশ মেমোসহ প্রমাণপত্র চাওয়া হলেও তারা কোনো উত্তর দেননি।

এরপর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয় এবং কোর্ট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। মামলাটি নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৬, ৩৭, ৩৯, ৪০ এবং ৫৮ ধারায় করা হয়েছে। সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের নম্বরে যোগাযোগ করলে তুহিন নামে এক কর্মচারী বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। মালিক বাইরে আছেন।”

বিষয়টি নিয়ে নেসলে বাংলাদেশের অফিসে ইমেইল পাঠানো হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (লিগ্যাল, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) এবং কোম্পানি সচিব দেবব্রত রায় চৌধুরী জানান,

“সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ-এর বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, Nestlé Bangladesh PLC এই পণ্য আমদানি বা বাজারজাত করেনি এবং সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।”


তিনি আরও বলেন, আমাদের ধারণা, এটি কোনও অননুমোদিত বা অবৈধ আমদানিকারক দ্বারা আমদানিকৃত হতে পারে। প্রতিবেদনে যেসব মানদণ্ড উল্লেখ করা হয়েছে তা কিটক্যাটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যা BSTI কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারে।

নেসলে আরও জানায়, গ্রাহকরা যেন আসল নেসলে পণ্য কিনতে পারেন, সে জন্য তারা প্যাকেটে “Imported and Marketed by: নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি” লেখা স্টিকার আছে কি না দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

কিটক্যাট চকলেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩৫ সালে যুক্তরাজ্যে, ‘রাউনট্রিস চকলেট ক্রিস্প’ নামে। ১৯৮৮ সালে এটি নেসলে অধিগ্রহণ করে ‘কিটক্যাট’ নাম দেয়। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বজুড়ে নেসলে এই চকলেট উৎপাদন করে, আর যুক্তরাষ্ট্রে এটি তৈরি করে হার্শে কোম্পানি। বহুজাতিক একটি ব্র্যান্ডের পণ্যে মানহীনতা ধরা পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এমন নামকরা কোম্পানি যদি নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে, তাহলে সাধারণ ভোক্তা কাকে বিশ্বাস করবে?

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর