ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একদিনে ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯২০


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:১৩ পিএম

দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার আবারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২০ জন রোগী।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সারাদেশে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯২০। বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৬ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকায় ১৪৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২১১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৫১ জন রোগী।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫ জন, রংপুর বিভাগে দুজন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ১০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত এক দিনে সারা দেশে ৯৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৫৯৭ জন রোগী।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮৬ হাজার ৯২৪ জন। ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৪৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, নভেম্বর মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুই-ই দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে নগর ও গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

এর আগে ২০২৪ সালে ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও ছিল উদ্বেগজনক। ওই বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন। সে বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেন ৫৭৫ জন রোগী। তার আগের বছর ২০২৩ সালে পরিস্থিতি ছিল আরও মারাত্মক। ২০২৩ সালে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় এক হাজার ৭০৫ জনের। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমাগত জলবায়ুর পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ও পরিবেশ অবহেলার কারণে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিবছরই বাড়ছে।

মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশনগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও প্রয়োজনীয় ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত সোর্স রিডাকশন, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ছাদে বা পাত্রে পানি না রাখা এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা কার্যকর করতে পারলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সামান্য জ্বর হলেও নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর