ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

গোপালপুরে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের ঘরে হাসির ঝিলিক


গোপালপুরে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের ঘরে হাসির ঝিলিক

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:০৫ পিএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে চলতি আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দীর্ঘ প্রতিকূলতা কাটিয়ে এমন ফলনে কৃষক-কৃষাণীদের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে তারা দিন গুনছিলেন বহুদিন ধরে। এখন সেই ধান কাটার উৎসব চলছে। নতুন ধান বিক্রি করে পরিবারের চাহিদা পূরণ, ছেলে-মেয়েদের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনা—সব মিলিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক নতুন ধান বিক্রি করে বাজার থেকে গরম জিলাপি ও মিষ্টি কিনে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

বাংলার কৃষিজীবী সমাজে শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যে আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হতো, নবান্ন তার মধ্যে অন্যতম। ঋতুচক্রের পরিক্রমায় হেমন্তের অগ্রহায়ণ মাস শুরু হতেই গ্রামীণ জনপদে নবান্নের ঘ্রাণ ভেসে বেড়াতে শুরু করে। এ অঞ্চলে কৃষকদের ঘরে ঘরে আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। যদিও সময়ের আধুনিকতা অনেক ঐতিহ্যকে আড়াল করেছে, তারপরও কেউ কেউ পূর্বপুরুষের স্মৃতি ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। এ বছর ধানের দাম ভালো এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারছেন—তাই তাদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ।

সরজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, হেমন্তের মিষ্টি বাতাসে দুলছে পাকা ও আধাপাকা ধানের সোনালি শীষ। মাঠজুড়ে যেন সৌন্দর্যের উৎসব। পাকা ধানের মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠেছে বাংলার মাঠ-ঘাট। অনেক জায়গায় ধান কাটার মহোৎসব শুরু হয়ে গেছে। কৃষকের উঠোন ভরে উঠছে নতুন ধানে। কৃষাণীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধান কাটার পর দ্রুত জমি প্রস্তুত করে সরিষা চাষের পরিকল্পনায় ব্যস্ত সবাই। এ বছর পানির পরিমাণ কম থাকায় পাইজাম জাতের ধানের চাষ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ফলে আমন ধানের উৎপাদনও আগের চেয়ে বেশি হয়েছে।


স্থানীয় কৃষক আলম মিয়া বলেন, “আমি তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার বন্যার পানি কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ধানের দাম কিছুটা কম হলেও খড়ের দাম বেশি। সব মিলিয়ে খরচ মিটিয়ে লাভ হবে।” কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, “আগে নবান্ন উৎসব ধুমধাম করে পালিত হতো। এখন আগের মতো ধুমধাম না থাকলেও বাপ-দাদার ঐতিহ্য আমাদের পরিবার ধরে রেখেছে।”
কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “১০ বছর আগেও পহেলা অগ্রহায়ণে ধুমধাম করে নবান্ন পালন করতাম। আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতাম। ২ দিন আগে গোসল করে পবিত্র হয়ে বাম হাত দিয়ে ধান কর্তন করে নবান্নের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতাম। এখন এসব অনুষ্ঠান অনেকটাই হারিয়ে গেছে।”.
চাকরিজীবী তরুণ আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, “ছোটবেলায় দেখেছি দাদা-দাদী, নানা-নানি সবাই মিলে নবান্ন পালন করতেন। ধান ঘরে তোলার দিন ইমামকে ডেকে দোয়া করা হতো, সবাই মিলে দুপুরে খাওয়া—স্মৃতিগুলো এখনো জীবন্ত।” ইতিহাস লেখক জুবায়ের আলী বলেন, “গ্রামেগঞ্জে আবহমানকাল ধরে নবান্ন উৎসব অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যেই পালিত হতো। কিন্তু আধুনিকতার কারণে এখন এই উৎসবে ভাটা পড়েছে।”

গোপালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, “এবার আমনে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। অর্জন হয়েছে ১২ হাজার ৯০০ হেক্টর। কৃষি বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। গোপালপুরের ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, তাই কৃষকের মুখে হাসি। এ বছর এমন অপ্রত্যাশিত ফলন কৃষকদের নতুন আশায় উজ্জীবিত করেছে।”

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর