ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ নভেম্বর থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেল কার্ড রিচার্জ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:১৭ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড রিচার্জ এখন ঘরে বসেই করা যাবে। ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব ধরনের অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্ড রিচার্জ করার উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবা চালু করা হবে। সেবাটির উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক, সেতু ও রেল মন্ত্রণালয়) শেখ মইনউদ্দিন।

শুরুতে ডিটিসিএর ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট লিংকে গিয়ে রিচার্জ করা যাবে। পরে আগামী মাসে চালু হতে যাওয়া অ্যাপের মাধ্যমেও রিচার্জ করার সুবিধা থাকবে। ডিটিসিএ সূত্র জানিয়েছে, এই সেবা চালু হলে যাত্রীদের আর স্টেশন বা ব্যাংক বুথে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। তবে একক যাত্রার কার্ড অনলাইনে কেনা যাবে না, তা স্টেশন থেকেই কিনতে হবে।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ডে অনলাইন রিচার্জ চালু হলে যাত্রীরা দ্রুত সেবা পাবেন, সময় বাঁচবে এবং ভোগান্তিও কমবে। বর্তমানে মেট্রোরেলে ব্যবহৃত দুটি স্থায়ী কার্ড—র‍্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস—নতুন ব্যবস্থায় অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিচার্জ করা যাবে।

অনলাইনে টাকা রিচার্জ করার পর যাত্রীকে অন্তত একবার স্টেশনে থাকা অ্যাড ভ্যালু মেশিনে (এভিএম) কার্ড স্পর্শ করাতে হবে। এটি না করলে রিচার্জ করা টাকার হালনাগাদ তথ্য কার্ডে যুক্ত হবে না। একবার এভিএমে স্পর্শ করার পর টাকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় স্পর্শ করতে হবে না। তবে পরবর্তীবার নতুন রিচার্জের পর আবার এভিএমে স্পর্শ করানো বাধ্যতামূলক।

ডিটিসিএর নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইন রিচার্জের ক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ের ফি গ্রাহককেই বহন করতে হবে। রিচার্জ করার পর এভিএমে স্পর্শ না করা পর্যন্ত তা অপেক্ষমাণ অবস্থায় থাকবে এবং তিন মাস পর্যন্ত বৈধ থাকবে। তিন মাসের মধ্যে স্পর্শ না করলে টাকা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফেরত যাবে, তবে সে ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। গ্রাহক চাইলে সাত দিনের মধ্যে রিচার্জ বাতিলের জন্য আবেদন করেও টাকা ফেরত নিতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

স্টেশনগুলোতে এভিএম যন্ত্র বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনে মোট ৩২টি যন্ত্র বসানো হবে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে পৌনে পাঁচ লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করেন। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, অনলাইন রিচার্জ চালুর পর যাত্রীদের সুবিধা আরও বাড়বে।

মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড—র‍্যাপিড ও এমআরটি পাস—ব্যবহারকারীরা ১০ শতাংশ ভাড়া ছাড় পান। বর্তমানে ৫৫ শতাংশ যাত্রী এই কার্ড ব্যবহার করে ভ্রমণ করছেন। বাকিরা ব্যবহার করেন একক যাত্রার কার্ড।

মেট্রোরেলের ট্রেন চলাচলের সময় বর্তমানে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত। মতিঝিল স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন রাত ১০টা ১০ মিনিটে। আগামী মাসে ট্রেনের ট্রিপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবধান কমে এলে দৈনিক যাত্রী সংখ্যা পাঁচ লাখের ওপরে পৌঁছাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকায় মেট্রোরেল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। আর স্থায়ী কার্ডের ক্লিয়ারিং হাউস পরিচালনা করছে ডিটিসিএ, যারা অনলাইন রিচার্জ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন কাজ দিয়েছে বেসরকারি কোম্পানি ডেটা সফটকে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর