ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষকদের তিন দিনের কর্মবিরতি, পাঠদান বন্ধ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৪০ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার তিন দফা দাবিতে তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে আসার পরও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না পাওয়ায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি চলবে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পর্যন্ত।

সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেরা বেগম জানান, সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে ১১তম গ্রেড দেওয়া, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি এবং ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন—এই তিন দফা দাবির বিষয়ে আমরা বহুদিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। কিন্তু আশ্বাসের বাইরে কোনো বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে যাচ্ছি।

তিনি আরও জানান, টানা তিন দিনের কর্মবিরতি চলবে। যদি দাবি আদায়ে অগ্রগতি না হয়, তাহলে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনসহ ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশনে যাওয়ারও ঘোষণা রয়েছে।

অন্যদিকে, ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শাহীনূর আকতার বলেন, ৩ দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় কর্মসূচি জোরদার করতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি আরও জানান, গত ১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু এর মধ্যে সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। তাই সারা দেশের সহকারী শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান—ন্যায্য তিন দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচি সফল করুন। সংগঠনের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হলে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনসহ ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশন শুরু করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০তম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে এতে সহকারী শিক্ষকরা সন্তুষ্ট নন।

তাদের দাবি, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, নার্স, কৃষি কর্মকর্তা, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি নিয়েও ১০তম গ্রেড পাচ্ছেন। অথচ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি সিএনএড, বিপিএড বা বিটিপিটি কোর্স সম্পন্ন করেও ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।

শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য এই তিন দফা দাবি। গ্রেড বৃদ্ধির পাশাপাশি পদোন্নতি প্রক্রিয়া সহজীকরণ শিক্ষকদের কর্মমর্যাদা ও প্রেরণা বাড়াবে। কর্মবিরতির মাধ্যমে তারা সরকারকে চাপ দিতে চাইছেন যাতে ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন হয়।

সরকারি বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, তিন দিনের কর্মবিরতির ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিরতি ঘটেছে। তবে দাবি আদায়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলেও শিক্ষার অভাব তাদের শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষকের মানসিক ও আর্থিক সুরক্ষা না থাকলে শিক্ষার মানও প্রভাবিত হয়। তাই সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সমাধান জরুরি।

তাদের ভাষ্য, কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করতে চায় না, বরং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি মাধ্যম। শিক্ষকদের দাবি কার্যকর না হলে, ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর